বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্রিজিং ভিসা বন্ধের প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ জুন ২০২৬, ১৫:৫৫আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ১৫:৫৫

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসন। তার দাবি, কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যেই দেশটিতে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) এক ঘোষণায় হ্যানসন বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থা অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে এবং এর প্রভাব আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে।

তার প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে চাইলে তাদের আগে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থীদের সহজ অর্থের প্রতি আসক্ত এবং ব্যবস্থার অপব্যবহারে তারা সহযোগী ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, এই ব্যক্তিদের অনেকেই এমন বাসস্থানে অবস্থান করছেন এবং এমন সেবা গ্রহণ করছেন, যা সবার আগে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য হওয়া উচিত।

হ্যানসনের দাবি, কিছু শিক্ষার্থীর পড়াশোনার কোনও প্রকৃত উদ্দেশ্য নেই। বরং তারা উচ্চ মজুরি ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে।

তার অভিযোগ, অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসে, এরপর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্সে আবেদন করে। এ সময় তারা ব্রিজিং ভিসার আওতায় থেকে কাজ করা, বাসস্থান পাওয়া এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, নতুন স্টাডি ভিসার আবেদন নিষ্পত্তি হতে গড়ে প্রায় ২০০ দিন সময় লাগে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তারা আপিল করে, যার নিষ্পত্তিতে গড়ে আরও ৬৪ সপ্তাহ সময় লাগে এবং এই সময়ও তারা ব্রিজিং ভিসায় অবস্থান করে।

হ্যানসনের মতে, অনেকেই যথাযথ ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও আশ্রয়ের আবেদন করে। কারণ, এমন আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়ে প্রায় তিন বছর সময় লাগে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও তারা আবার আপিল করে অস্ট্রেলিয়ায় আরও দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারে। তিনি দাবি করেন, তিন বছরের ব্যবধানে ব্রিজিং ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজারে পৌঁছেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমালোচনা করে হ্যানসন বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমস্যার অংশে পরিণত করেছে। তার মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সিডনিতে ক্যাম্পাস ও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের শিক্ষার প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাধ্য করা উচিত।

হ্যানসনের প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে, কোনও বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে তাকে আর ব্রিজিং ভিসা দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও থাকবে না।

সূত্র: ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসনের মিডিয়া রিলিজ থেকে নেওয়া 

/এএস/
সম্পর্কিত
ফের ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান   
ইরান চুক্তিতে ইসরায়েলের পছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র
মমতার বাড়ি লাগোয়া তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি
সর্বশেষ খবর
‘বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’
‘বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’
উত্তরায় বিশ্বখ্যাত জাপানি বুকশপ ‘কিনোকুনিয়া’
উত্তরায় বিশ্বখ্যাত জাপানি বুকশপ ‘কিনোকুনিয়া’
বলিউডে নতুন স্টারকিড, কে এই নওমিকা সারান?
বলিউডে নতুন স্টারকিড, কে এই নওমিকা সারান?
ফের ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান   
ফের ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান   
সর্বাধিক পঠিত
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
এনআইডি’র স্মার্টকার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে নভেম্বরে 
এনআইডি’র স্মার্টকার্ড প্রকল্প শেষ হচ্ছে নভেম্বরে 
খুলছে নতুন দিগন্ত, আসছে ইসলামী সঞ্চয়পত্র
খুলছে নতুন দিগন্ত, আসছে ইসলামী সঞ্চয়পত্র
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
পুলিশে যোগদানের ২০ বছর পর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এসআইয়ের মৃত্যু
পুলিশে যোগদানের ২০ বছর পর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এসআইয়ের মৃত্যু