রাশিয়া জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মস্কোতে আফগানিস্তান নিয়ে একটি আলোচনায় যোগ দিতে রাজি হয়েছে তালেবানরা। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর মস্কোতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনও অংশগ্রহণ থাকবে না। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি’র বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।
আলোচনার এই পরিকল্পনা এমন সময় আসলো যখন তালেবানরা আফগানিস্তানে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে এবং এই মাসের শুরুতেই কাবুলের পাশে একটি কৌশলগত শহর গজনিতে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান শুরুর পর তালেবানদের আলোচনায় বসানোর ক্ষেত্রে এই রাজি হওয়াকে নিজেদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, ৪ সেপ্টেম্বর মস্কোতে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় তালেবানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মধ্যস্ততায় সুফল আসতে পারে বলে আশা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। তারা বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এই বিষয়ে তালেবানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আফগানিস্তানে অবস্থান করা রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একই সঙ্গে রাশিয়া, তালেবানদের সশস্ত্র পথ পরিহার করে সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে উৎসাহিত করেছে।
আফগান সরকার দাবি করেছে আইএসবিরোধী যুদ্ধে তালেবানকে কাজে লাগাতে চাইছে রাশিয়া। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ল্যাভরভ। তিনি বলেন, আমি অনুমানেও কল্পনা করতে পারি না কিভাবে রাশিয়া আইএসের বিরুদ্ধে তালেবানকে কাজে লাগাবে। আইএসের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোত যুদ্ধ করছি। আমরা সিরিয়ায় যুদ্ধে সহযোগিতা করেছি। আমরা ইরাকের সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছি একই লক্ষ্যে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা চাই আফগানিস্তানের জনগণ আইএসের হাত থেকে যেনো মুক্তি পান।
পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগান সরকারের এই দাবির সমালোচনা করেছে। তবে পবিত্র ঈদুল আজহায় আফগান সরকারের অস্ত্রবিরতির প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও তালেবান এই অস্ত্রবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বরের আলোচনায় রাশিয়া, আফগানিস্তান, চীন, পাকিস্তান, ইরান ও ভারতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
সম্প্রতি আফগান তালেবান তাদের কূটনৈতিক উদ্যোগ শক্তিশালী করেছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে উজবেকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায়। তালেবান জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে কাতারে এক সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকও করেছে। তবে তারা আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি। আফগান সরকারকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল বলে আখ্যায়িত করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৯/১১ হামলার পর সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আফগানিস্তানে মার্কিন পদক্ষেপ নিয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠছে রাশিয়া এবং নিজেদের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে অঞ্চলটিতে।








