তিন মাসের মধ্যে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় আক্রমণ চালিয়েছে রাশিয়া। রবিবার (১৭ নভেম্বর) লভিভ, মাইকোলাইভ, ওডেসা এবং ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৯০টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনিয়রা কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিল, যা ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের প্রায় এক হাজার দিন পরে আসন্ন শীতকালে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা এবং মানসিক চাপ বাড়ছে।
রাতের বেলা রাজধানী কিয়েভে ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এসময় স্থানীয়রা ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল।
কিয়েভের বিমান বাহিনী জানিয়েছে,তারা ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০৪টি ধ্বংস করেছে। ৪২টি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। আরও ৪১টি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের শক্তি শিল্পে বৃহত্তম বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে’র সিইও ম্যাক্সিম টিমচেঙ্কো জানিয়েছেন, রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এই হামলাগুলো আবারও আমাদের মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমের ভলিন, রিভনে, লভিভ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্বের ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক এবং জাপোরিঝিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলের ‘জরুরি অবকাঠামো’ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী অবকাঠামোতে বিশাল হামলা চালিয়েছে।
মলদোভার উপ-প্রধানমন্ত্রী মিহাই পপসোই বলেছেন, ইউক্রেনে হামলার সময় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মলদোভার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান বাহিনী মোতায়েন করেছে।








