ইউক্রেনে মোতায়েন পশ্চিমা সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি পুতিনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৫আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনে মোতায়েন করা কোনও পশ্চিমা সেনা মস্কোর হামলার জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে থাকা কিয়েভের মিত্রদের উদ্দেশে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর বক্তব্যের একদিন পর। এ সতর্কবর্তা দিলেন পুতিন। মাখোঁ বৃহস্পতিবার জানান, ২৬টি দেশ ইউক্রেনকে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে, যার মধ্যে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার অন্যতম কারণ ছিল ন্যাটোকে কিয়েভকে সদস্যপদ দেওয়া এবং সেখানে বাহিনী মোতায়েন করা থেকে বিরত রাখা।

এক অর্থনৈতিক ফোরামে পুতিন বলেন, ‘তাই যদি কোনও সেনা সেখানে উপস্থিত হয়, বিশেষ করে এখন, সামরিক অভিযানের সময়, আমরা ধরে নেব তারা ধ্বংসের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয় যা শান্তি আনে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনে, তাহলে আমি একেবারেই ইউক্রেনের ভূখণ্ডে তাদের উপস্থিতির কোনও যৌক্তিকতা দেখি না, এখানেই শেষ।’

ভবিষ্যতে যেকোনও যুদ্ধ-সমাপ্তি চুক্তির অধীনে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার রূপ নিয়ে পুতিনের এই মন্তব্য মস্কোর অবস্থান ও কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্রদের অবস্থানের মধ্যে বিশাল ফারাককে তুলে ধরেছে।

ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে দৃঢ় সমর্থন চায়, যাতে ভবিষ্যতে কোনও আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। ফ্রান্স ও ব্রিটেন, যারা ইউক্রেন সমর্থনে ‘ইচ্ছুকদের জোট’ এর নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে তারা উন্মুক্ত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন স্থলভাগে সেনা পাঠাবে না। তবে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মতো অন্যান্য সমর্থন দিতে পারে।

পুতিন বলেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, রাশিয়া অবশ্যই এই চুক্তিগুলো কার্যকর করবে। কিন্তু যেকোনো ক্ষেত্রে, এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও গুরুতর আলোচনা হয়নি।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন; যাতে ইউরোপের গত ৮০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথে অগ্রগতি হয়।

পুতিন শুক্রবার বলেন, তিনি এমন বৈঠকের তেমন কোনও অর্থ দেখছেন না। কারণ মূল বিষয়গুলোতে ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব হবে।

তবে তিনি এই সপ্তাহের শুরুর দিকে করা প্রস্তাবটি আবারও পুনরাবৃত্তি করেন যে, তিনি মস্কোতে জেলেনস্কিকে আলোচনার জন্য স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

পুতিন বলেন, আমি বলেছি আমি প্রস্তুত, অনুগ্রহ করে আসুন, আমরা অবশ্যই কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিব।

জেলেনস্কি মস্কোকে বৈঠকের স্থান হিসেবে সরাসরি উল্লেখ না করলেও শুক্রবার বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমরা মনে করি না যে পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তিনি কথা বলতে পারেন, কিন্তু সেগুলো শুধু কথা, আর তার কথায় কেউই বিশ্বাস করে না।

/এস/
সম্পর্কিত
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী