ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বৃহস্পতিবার নির্বাচনি প্রচারণার উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনের সময় দেওয়া ভাষণে তিনি দেশটির ‘কারচুপি ব্যবস্থা’কে কঠোর আক্রমণ করেছেন। বলেছেন, এই ব্যবস্থা চালাচ্ছে সুবিধাভোগী অভিজাত কর ফাঁকিবাজ, কোটিপতি ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্ত মালিকরা। আসন্ন নির্বাচন দেশকে বদলে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ, যাতে করে কোনও সম্প্রদায়কে পিছিয়ে থাকতে না হয় এবং সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব।
দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-জনসন সমঝোতা হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা অনুমোদন পায়নি। ২৮ অক্টোবর ইইউ-এর পক্ষ থেকে ব্রেক্সিট কার্যকরের পূর্বনির্ধারিত সূচি ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ মাস বাড়িয়ে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওই প্রস্তাবে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানান বরিস জনসন। ২৯ অক্টোবর ব্রিটিশ এমপিরা আগাম নির্বাচনে জনসনের প্রস্তাবে দেন। ফলে আগামী ১২ ডিসেম্বর দেশটির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯২৩ সালের পর ডিসেম্বরে এটিই হবে প্রথম নির্বাচন।
বৃহস্পতিবার লন্ডনে লেবার পার্টির নির্বাচনি প্রচারণার উদ্বোধন করেন করবিন। এবার দলটি পুরনো একটি স্লোগানের পাশাপাশি নতুন আরেকটি যুক্ত করেছে। পুরনো স্লোগান হলো, ‘মুষ্ঠিমেয় নয়, অনেকের জন্য’ এবং ‘সত্যিকার পরিবর্তনের সময় এখন’।
পশ্চিমা পুঁজিবাদী ঐক্যকে সমালোচনা করে করবিন বলেছেন, শ্রমিকদের শোষণকারী, জনগণকে হেয় ও পরিবেশ দূষণকারী অভিজাত দুর্নীতিগ্রস্তদের উৎখাত করতে এই নির্বাচন একটি সুবর্ণ সুযোগ।
ভাষণে করবিন লেবার পার্টি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। এতে তিনি রেল, ডাক ও পানি সেবাকে রাষ্ট্রীয়করণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া ব্যাংকারদের উপর উচ্চহারে করারোপের কথাও বলেছেন তিনি।
লেবার নেতা বলেন, ‘অনেকে বলেন পরিবর্তন সম্ভব নয়, সত্যিই কি তাই? এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা যেখানে লোকজনকে অপেক্ষা করতে হবে না ও বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র পাওয়া যাবে, এটি খুব বেশি চাওয়া?’
‘বিনামূল্যে ব্যক্তিগত সেবাযত্নসহ একটি লালন-পালন ব্যবস্থা কি খুব বেশি চাওয়া হয়ে যায়? ১৬ বছরে তরুণ থেকে শুরু করে সবার জন্য বাঁচার মতো মজুরী কি খুব বেশি চাওয়া? কষ্টকরে ঘুমানো বন্ধে সামর্থ্যের মধ্যে ঘর কেনা ও সঞ্চয়ের মধ্যে ঘর ভাড়ার ব্যবস্থা করা কি বেশি কিছু? শিশুদের জন্য ৩০ ঘণ্টা যত্ন, উন্নত শিক্ষা থেকে সমাধিতে মোমবাতি কি খুব বেশি চাওয়া?’
‘কিংবা যেখানে একেবারে প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে সেই সম্প্রদায়ে কয়েক হাজার নতুন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান তৈরি করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সত্যিকার পদক্ষেপ নেওয়া? না, এসব খুব বেশি চাওয়া নয়। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃতপ্রায় পৃথিবীতে বসবাস এড়াতে হলে আমাদের বৈপ্লবিকভাবে পরিবর্তনের পথে এগুতে হবে।’
২০১৭ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৬৪৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১টি আসন। আর কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৭টি আসন। কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ছোট দলের সমর্থনে সরকার গঠন করেন কনজারভেটিভ পার্টির থেরেসা মে।








