যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানতে এবং তার মূল্যবোধ ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ৪৮তম বিজয় দিবসটি এই লক্ষ্য নিয়েই উদযাপন করছে বাংলাদেশি হাই কমিশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো যুক্তরাজ্যে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলাকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেছেন তিনি।
৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ১৯৭০ ও ৭১ সালে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুল ধরতে এক আলোকচিত্র অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাঈদা মুনা তাসনিম। প্রদর্শনীটি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের গভীরতা মনে করিয়ে দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
প্রদর্শনী চলাকালে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাজ্যে আমরা বাংলাদেশের ৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপন করছি। দিবসটি উপলক্ষে আমরা একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালে যেভাবে বাঙালি-ব্রিটিশরা সহযোগিতা করেছিলেন সেগুলোর কিছু অংশ এই ছবিগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধে তারা আন্তর্জাতিক মত গঠন ও সহযোগিতা আদায় করেছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির জন্য কাজ করেছেন।
হাই কমিশনার বলেন, বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি, বিখ্যাত রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী এই প্রচারণায় যোগ দেন এবং তারা বাঙালি ব্রিটিশদের সঙ্গে পথে নামেন।
বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, কমিশনের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের পরবর্তী প্রজন্মকে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানানো। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এই মুহূর্তে হাই কমিশন মূল মনোযোগ ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের ওপর রাখতে চায়। আমাদের বার্তা হলো, জাতির জনক ও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর মূল্যবোধ সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে। যে মূল্যবোধ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অংশ হিসেবে ২৩ বছর থাকা বাংলাদেশকে সেক্যুলার প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
সাঈদা মুনা তাসনীম বলেন, আমরা ২৩ বছর ধরে সংগ্রাম করছিলাম। ১৯৭১ সালে একটি নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। যে রাষ্ট্র গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষবাদ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে চারটি স্তম্ভ করেছে।
আগামী বছর জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করা হবে। এই বিষয়ে বাংলাদেশি হাই কমিশনার জানান, যুক্তরাজ্য সরকারসহ ব্রিটিশ-বাঙালি অভিবাসীদের নিয়ে এই মাইলফলক উদযাপনের আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের মূল বার্তা হবে, বঙ্গবন্ধু যে মূল্যবোধের প্রচারণা চালিয়েছেন তা ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন। ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে আমাদের এই মূল্যবোধের সামঞ্জস্য রয়েছে। যাতে করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সেক্যুলার, প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে।
ব্রিটিশ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী সম্পর্ক নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। তাই আমরা জিএসপিএস’র এর অধীনে সবগুলো খাতে বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধা পাচ্ছি।
মুনা তাসনীম বলেন, স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। তাই ২০৩০ সাল পর্যন্ত আমরা দ্বিপক্ষীয় বজায় রাখতে এবং জিএসপিএসের সুবিধা নিতে চাই। যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে আমরা নিশ্চয়তা পেয়েছি এবং আমরা আশাবাদী।








