যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মিলিয়ে আট লক্ষাধিক মানুষের কমিউনিটিতে অনুষ্ঠান, সভা সমাবেশ আবার শুরু হয়েছে। করোনা মহামারির গৃহবাস পেরিয়ে মানুষ আবারও বাইরে বের হতে শুরু করেছেন। সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে ব্রিটেনে শুরু হয়েছে বাংলাদেশিদের ঘুরে দাঁড়াবার সংগ্রাম।
ব্রিটেনে এখনও করোনার লকডাউন চলছে। লকডাউনের শর্ত শিথিলের তারিখ বার বার পিছিয়ে দিচ্ছে দেশটির সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার আর্লি থার্ড ওয়েভ আসতে পারে। দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের পরিমাণ। প্রতি ১১ দিনেই দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে ব্রিটেনে আক্রান্তের পরিমাণ। আর এই ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতার মধ্যে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।
লকডাউন শিথিলের তারিখ পেছানো হলেও সামনের মাস থেকে ব্রিটেন সরকার আয় বা বেতনের বিকল্প ফার্লো স্কীমের বরাদ্দ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে আশঙ্কায় ভুগছেন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ।
ব্রিটেনের নিউহাম কাউন্সিলের সদস্য মুজিবুর রহমান জসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রেস্টুরেন্ট, ট্যাক্সি-এ দুটি খাতেই এখনও বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি। করোনার গৃহবন্দিত্বের পর এ দুটি খাতে আগের অবস্থান ফিরে পাওয়াই হবে মূল চেষ্টা।
মহামারির সময়ে ব্রিটিশ সরকারের চালু করা ফার্লো প্রকল্পের বরাদ্দ জুলাই থেকে ৭০ শতাংশে নেমে আসবে। মানুষের তাই কাজে ফেরা বা নতুন কাজের খোঁজ করার বিকল্প নেই।
লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন সলিসিটর, কলামিস্ট বিপ্লব কুমার পোদ্দার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনায় ঠিক কত লাখ মানুষ ব্রিটেনে চাকুরি হারাবেন, সেটা বোঝা যাবে সরকারের প্রণোদনায় বেতনের চলমান ফার্লো স্কীম বন্ধ হবার পরে।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুহার ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। করোনার দুই দফা সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ এথনিক কমিউনিটির তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিরা।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কীভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কমানো যায় সেই বিষয়ে কিছু পরামর্শ ও প্রস্তাবনাও দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। কমিশন অন রেস এন্ড এথনিক ডিসপার্টিজের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মৃত্যুহার ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবার নেপথ্যে ছিল সংক্রমণ ঝুঁকি। এথনিক মাইনোরিটি কমিউনিটির একাধিক অসু্বিধাজনক পরিস্থিতি সংক্রমণ ও মৃত্যু হার বাড়িয়েছে।
মূলত, স্বাস্থ্যগত কারণে বাংলাদেশিরা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বাংলাদেশিরা মূলত খুচরা বিক্রয় খাত, পরিবহন বিশেষত ট্যাক্সি ও হসপিটালিটি খাতে কাজ করেন। অসুস্থতাকালীন সবেতন ছুটি কম পাওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করাও এ কমিউনিটিতে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ হবার বড় কারণ।
এছাড়া বাংলাদেশিরা মূলত যৌথ পরিবারে বসবাস করেন। একই ছাদের নিচে পরিবারের তরুণ ও বৃদ্ধরা বসবাস করায় পরিবারের তরুণদের স্কুল, কলেজ এবং কর্মস্থল থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে যা পরিবারের বয়স্কদের করোনা আক্রান্তের বড় কারণ। এসব কারণ সন্মিলিতভাবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য ভয়াল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
সরব কমিউনিটি
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের কারামুক্তির দাবিতে গত ১৮ই মে পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করে ইউকে-বাংলা প্রেসক্লাব। দিনভর বৃষ্টি উপেক্ষা করে এ কর্মসূচীতে কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ জমায়েত হন। করোনা মহামারির পর এটিই ছিল কমিউনিটির প্রথম বড় কোন জমায়েত।
এছাড়া অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে পুনর্মিলনী সভার আয়োজন করেন। অন্যদিকে সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিব মনোনয়ন পাওয়ায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আনন্দ সভার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জমায়েত করেন।









