ব্রিটিশ গবেষকেরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ওমিক্রন বেশি মৃদু- এমন কোনও প্রমাণ তারা পাননি। শুক্রবার ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডন (আইসিএল) গবেষণাটি প্রকাশ করেছে। এতে আরও দেখা গেছে, ওমিক্রনে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ডেল্টার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণাটির পিয়ার রিভিউ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই গবেষণায় কেবল তাদেরই তথ্য নেওয়া হয়েছে যারা গত ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনের তীব্রতায় (হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি এবং লক্ষণের তীব্রতা অনুসারে) পার্থক্যের কোনও প্রমাণ আমরা পাইনি।’ তবে এতে স্বীকার করা হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে খুব কম তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।
১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের অবস্থা, বয়স, লিঙ্গ, জাতিগততা, উপসর্গহীন অবস্থা, অঞ্চল এবং নমুনার তারিখের ওপর নির্ভর করে ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি ৫.৪ গুন বেশি। ইম্পেরিয়াল কলেজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওমিক্রনের পুনরায় সংক্রমণের বিরুদ্ধে আগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ১৯% কম হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণের দুই বা তার বেশি সপ্তাহ এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণের দুই বা তার বেশি সপ্তাহের মধ্যে ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার কথাও বলা হয়েছে।
গবেষণার প্রধান অধ্যাপক নীল ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই সমীক্ষাটি আরও প্রমাণ করে ওমিক্রন ধরনটি সংক্রমণ বা টিকা গ্রহণের পর শরীরে ইমিউনিটি তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যার অর্থ ওমিক্রন জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড়, আসন্ন হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
যুক্তরাজ্যের ভ্যাকসিন টাস্কফোর্সের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ক্লাইভ ডিক্স বলেছেন, তথ্যগুলোর অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তগুলো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। কেননা আমাদের কাছে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’








