জ্বালানির মিটারে নিয়মিত অর্থ ঢাললেও তা কখনও পর্যাপ্ত হচ্ছে না জেনিফার জোনেসের। কিন্তু যখন তিনি বিল পরিশোধ করতে পারছিলেন না তখন তাৎক্ষণিক প্রভাব টের পেতে শুরু করেন।
সম্প্রতি তার লন্ডনের বাড়িতে বিদ্যুৎ তিনবার বিচ্ছিন্ন হয়। একবার যখন তার সঙ্গী একটি ডিম রান্না করছিলেন।
লাখো মানুষের মতো ৫৪ বছর বয়সী জোনেস জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন। এই সময়কে বলা হচ্ছে কয়েক প্রজন্মের মধ্যে ব্রিটেনের সবচেয়ে খারাপ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট। সাবেক স্কুল সুপারভাইজার জোনেসের স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে এবং এজন্য তিনি সরকারি সেবার ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে কল্যাণ ভাতায় পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ওষুধ কিনতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি সব সময় কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে, কিন্তু এমনটি কখনও ছিল না। সবকিছুর দাম বাড়ছে। আমি নিজের বাসা ভাড়া, কাউন্সিল কর পরিশোধ করতে পারছি না। প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই কিনতে পারছি না। আমি নিজেকে বারবার জিজ্ঞেস করি, আমার কী করা উচিত?
যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। দেশটির নাগরিকদের বার্ষিক জ্বালানি বিল ৮০শতাংশ বাড়ছে। শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিয়ন্ত্রক। এর আগে এপ্রিলে রেকর্ড মাত্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে গড়ে একজন ক্রেতার বার্ষিক জ্বালানি বিল ১ হাজার ৯৭১ পাউন্ড (২ লাখ ২১ হাজার ৭২৭ টাকা) থেকে বেড়ে হবে ৩ হাজার ৫৪৯ পাউন্ড (৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৪৪ টাকা)।
১ অক্টোবর থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে। যখন দেশটিতে শীতকাল শুরু হবে। এছাড়া আবারও জানুয়ারিতে জ্বালানি বিল বেড়ে হতে পারে ৪ হাজার পাউন্ড (৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৭৯ টাকা)।
প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপজুড়ে ভোক্তামূল্য ও অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। অঞ্চলটি ঘর উষ্ণ রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
শিল্পোন্নত সাতটি দেশের জোট জি-৭ এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির হার এখন সর্বোচ্চ। এছাড়া দেশটিতে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে মজুরি বৃদ্ধির জন্য কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পেশার কর্মীরা ধর্মঘট পালন করছেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি গত ৪৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চতে নিয়ে যেতে পারে। জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.১ শতাংশ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আশঙ্কা করছে, এই বছরের শেষ দিকে মন্দা শুরু হতে পারে। দাতব্য সংস্থা, সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, এমনকি জ্বালানি কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলছে, ইতোমধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। কারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে মজুরির সামঞ্জস্য নেই।
সূত্র: এপি









