লন্ডনের বাংলাদেশি জনপ্রিয় ও লাইম হাউস আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত দুই বারের এমপি আপসানা বেগম এখন কি জেরেমি করবিনের সঙ্গে যোগ দিবেন। বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি ও লেবার পার্টির সাবেক এই নেতা ও অন্য চারজন স্বতন্ত্র এমপি বরখাস্ত হওয়া এমপিদের সঙ্গে একসাথে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে এরই মধ্যে চিঠি লিখেছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সুযোগ-সুবিধা দুই সন্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবটি ৩৬৩-১০৩ ভোটে পরাজিত হয়। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে ভোট দেওয়ায় দল থেকে গত মঙ্গলবার রাতে অন্য ছয় লেবার পার্টির এমপির সঙ্গে আপসানাকেও ছয় মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়।
তারা হলেন- সাবেক শ্যাডো চ্যান্সেলর জন ম্যাকডোনেল, স্যার কিয়ারের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী রেবেকা লং-বেইলি, রিচার্ড বার্গন, ইয়ান বাইর্ন, ইমরান হোসেন ও জারাহ সুলতানা। পর্যালোচনা করার আগে তারা এখন ছয় মাসের জন্য স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে পার্লামেন্টে বসবেন।
স্যার কিয়ার স্টারমার নিজ দলের সাতজন এমপিকে বরখাস্ত করে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন বলে ইতোমধ্যেই সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো।
আপসানাসহ বাকী বরখাস্ত হওয়া লেবার পার্টির এমপিরা কি জেরেমির সঙ্গে প্রকাশ্যপ সমঝোতা করবেন, নাকি আলাদা অবস্থানে থাকবেন-এটাই এখন দেখার বিষয়।
কারণ ৩৪ বছর বয়সী আপসানা ২০১৯ সালে প্রথমবার মনোনয়ন পান সাবেক দলীয় শীর্ষনেতা বামপন্থী জেরেমি করবিনের হাত ধরেই। সাবেক কাউন্সিলার ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা মরহুম মনির উদ্দীন আহমেদের কন্যা আপসানার লেবার পার্টির রাজনীতিতে উত্থান সেখান থেকেই।
ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার লেবার পার্টির এমপিদের মধ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি আপসানার নাম রয়েছে। দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে বাকী তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এমপির তুলনায় তিনি বারবার ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের পক্ষে সরাসরি কথা বলেছেন। কমিউনিটির মানুষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেন নিয়মিত।
এ কারণে বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিজ আসনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। গত নির্বাচনে তার দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে বিজয়ী হবেন এই পরিস্থিতি ছিল। পরে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়ীও হন তিনি।









