লন্ডন থেকে লরিতে ফ্রান্সে পাচার: ২৩ বাংলাদেশি উদ্ধার

মুনজের আহমদ চৌধুরী, লন্ডন
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪

লন্ডন থেকে লরিতে করে ফ্রান্সে পাচারের চেষ্টাকালে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ব্রিটিশ ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। ডোভার বন্দরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে , ডোভার সীমান্তের ফেরি বন্দরের কাছে এনসিএর একটি বিশেষ অভিযানে মানবপাচার চক্রের কৌশল ফাঁস হয়। এ সময় একটি লরি তল্লাশি করে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, তাদের মধ্যে ২২ জনই যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাস করছিলেন, তবে ফ্রান্সের কঠোর প্রবেশ বিধিনিষেধ এড়াতে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। অভিযানে পাচারকারী চক্রের মূল হোতা হিসেবে নিউ ক্রসের ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।

এনসিএর কর্মকর্তারা বলেছেন, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে অভিবাসী পাচারে জড়িত ছিল এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, মানব পাচার চক্রটির শিকড় টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মহলের ভেতরে গভীরভাবে বিস্তৃত। চক্রের একাধিক সদস্য কাগজে-কলমে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করলেও বাস্তবে তারা স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

এই ব্যবসাগুলোর আড়ালে মানব পাচারের অর্থ লন্ডারিং করে তারা গত ১৫ বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হন। একসময় সাধারণ দোকানদার হিসেবে পরিচিত এসব ব্যক্তি এখন তদন্তকারীদের কাছে ‘ছদ্মবেশী কোটিপতি’ হিসেবে পরিচিত।

এই পাচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল লন্ডনের একদল প্রাইভেট ট্যাক্সি চালক। সম্প্রতি অভিযানে ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী তিনজন ট্যাক্সি চালককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কাজ ছিল লন্ডনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিবাসীদের সংগ্রহ করে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার একটি গোপন স্থানে পৌঁছে দেওয়া। সেখান থেকে অভিবাসীদের লরিতে তুলে ডোভারে নেওয়া হতো। প্রাইভেট ট্যাক্সি ব্যবহারের মাধ্যমে চক্রটি দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়।

এনসিএ বর্তমানে প্রায় ১০০টি গুরুতর অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত চালাচ্ছে। তবে টাওয়ার হ্যামলেটসকেন্দ্রিক এই মানব পাচার চক্রটি সংস্থাটির জন্য সবচেয়ে বড় ও জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

/এসএসএস/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম