মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিম-বিদ্বেষ এখন সেখানকার মিলিয়ন-মিলিয়ন ডলারের রাজনৈতিক প্রকল্প। বৃহৎ কর্পোরেট ফাউন্ডেশনগুলো এই অর্থ ঢালছে। সোমবার (২০ জুন) কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-র সেন্টার ফর রেইস অ্যান্ড জেন্ডার (সিআরজি)কে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
সিএআইআর এবং সিআরজি-র দাবি অনুসারে, প্রায় ৭৪টি ফাউন্ডেশন, নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণাকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামফোবিয়ার ক্ষেত্র তৈরি করছে। যার মূল লক্ষ্য ইসলাম এবং মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ অথবা ঘৃণাকে উস্কে দেওয়া। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম ভোট আর মুসলিমবিরোধী প্রচারণার রাজনীতি সেই ২০০১ সালের টুইন টাওয়ার হামলার সময় থেকেই এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এই ধারার প্রচারণা নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। রক্ষণশীল রাজনীতি এই ইসলামিফোবিয়া ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সবল করতে সক্ষম হয় সবসময়ই।
গার্ডিয়ানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামফোবিয়ার জন্ম দেওয়া প্রধান গ্রুপগুলো হলো, অ্যাবস্ট্রাকশন ফান্ড, ক্ল্যারিয়ন প্রজেক্ট, ডেভিড হোরোওইটজ ফ্রিডম সেন্টার, মিডল ইস্ট ফোরাম, আমেরিকান ফ্রিডম ল’ সেন্টার, সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি, ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্ট অন টেরোরিজম, জিহাদ ওয়াচ এবং অ্যাক্ট! ফর আমেরিকা ইত্যাদি। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছে ওই গোষ্ঠী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব গোষ্ঠীর মধ্যে সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি এবং অ্যাক্ট! ফর আমেরিকা সবচেয়ে আগ্রাসী। তারা যে ঘৃণার প্রচারণা চালাচ্ছে, তার ফলে দেশব্যাপী মুসলিমদের মসজিদে হামলা চালানো হবে এবং মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যপূর্ণ আইন তৈরি করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি (সিএসপি)-র প্রধান ফ্রাঙ্ক গাফনি একজন সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা, আর ডেভিড হোরোওইটজ ফ্রিডম সেন্টার তো ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গেই সরাসরি জড়িত। সিএসপি মুসলিমদের ‘মার্কিন জীবনযাত্রা’র জন্য হুমকি বলে মনে করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত বক্তব্যকে অসাবধানতাবশত মনে হলেও মূলত তা খুব সচেতনভাবেই প্রস্তুত করা হয় বলে গার্ডিয়ানের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টারা সরাসরি ওইসব গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ হাজির করা হয়েছে সিএআইআর এবং সিআরজির প্রতিবেদনে।
ওই উপদেষ্টাদের অন্যতম আলাবামার সিনেটর জেফ সেশন। অভিবাসন-বিরোধী এবং মুসলিম-বিরোধী তীব্র বক্তব্যের জন্য তিনি আগে থেকেই সমালোচিত। সূত্র: গ্লোবাল রিসার্চ, দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/
/আপ-এএ/








