আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের মনোনয়ন প্রার্থিতা প্রত্যাশী সিনেটর বার্নি স্যান্ডারস বলেছেন, তার রাজনৈতিক বিপ্লব শুরু হচ্ছে মাত্র। হিলারি ক্লিনটনের কাছে প্রার্থীতার লড়াইয়ে ‘হেরে যাওয়া’র দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে নিজের সমর্থকদের এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। যদিও এখনও নিজের পরাজয় মেনে নেননি প্রবীন এ রাজনীতিক।
‘এখান থেকে কোথায় যাব আমরা’ শিরোনামে দেওয়া ৭৫ মিনিটের বক্তব্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে প্রগতিশীলতার ঝাণ্ডা তিনি তুলে ধরেছেন তা এগিয়ে নিতে তার সমর্থকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কখনও অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সত্ত্বাকে হারিয়ে যেতে দেবেন না।
রাজনৈতিক বিপ্লবের কথা বলতে গিয়ে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী স্যান্ডার্স সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার জন্য তার দীর্ঘ দিনের লড়াই ও প্রচারণার কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যে অতীত ইতিহাসকেও টেনে আনেন তিনি। ১৯১১ সালে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা বলেন।
স্যান্ডার্স বলেন, নির্বাচনের দিন আসবে ও যাবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিপ্লব জারি থাকবে।
এ মাসের শুরুতে হিলারি ক্লিনটন পর্যাপ্ত ডেলিগেট সমর্থন পেয়ে গেলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিজের প্রচারণা চালিয়ে কথা বলে আসছিলেন স্যান্ডার্স। ক্যালিফোর্নিয়া প্রাইমারিতে হিলারির জয়ের পর ডেমোক্রেট দলের অনেকেই হিলারিকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন বতর্মান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বিডেন।
বুধবার স্যান্ডার্স সিদ্ধান্ত টানেন যে, এ বছর ডেমোক্রেটিক দলের মনোয়ন ‘পাচ্ছেন না’ তিনি। তবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারে দলের চাপকে অগ্রাহ্য করে মনোনয়ন লড়াই থেকে নিজেকে প্রত্যাহার ও হিলারিকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। হিলারিকে স্যান্ডার্সের সমর্থন দেওয়াকে বিভক্ত ডেমোক্রেট দলকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রধান বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের নেতারা আশঙ্কা করেছেন, যতদিন মনোনয়ন লড়াইয়ে থাকবেন ততদিন স্যান্ডার্সের সমর্থকদের মন জয় করার চেষ্টা করবেন ট্রাম্প।
বুধবারই স্যান্ডার্স সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এক বক্তব্যে তিনি নিজেকে ক্লিনটনের প্রতিষেধক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্য শুরু করার এক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেন স্যান্ডার্স। কিন্তু একবারও হিলারি ক্লিনটনের নাম নেননি তিনি। কিন্তু আশ্বাস দিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়া ঠেকাতে সম্ভাব্য সবকিছু করবেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, এমনকি এ জন্য যদি আমাকে সারা দেশ চষে বেড়াতে হয় সেটাও আমি করব। ট্রাম্প যাতে প্রেসিডেন্ট হতে না পারেন সে জন্য আমাদের নিরলস কাজ করে যেতে হবে। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। দেশকে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
স্যান্ডার্সের বক্তব্যের সময় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরা বারবার তার প্রশংসায় স্লোগান দেন। বক্তব্যে ২০১৫ সালে মে শুরু হওয়া নির্বাচনি প্রচারণায় উল্লেখ করা বিভিন্ন বিষয় আবারও তুলে ধরেন। সবাইকে মনে করিয়ে দেন, এ পর্যন্ত কী অর্জন করা গেছে। এক পর্যায়ে উপস্থিত সবাই বার্নি বলে চিৎকার শুরু করেন।
বক্তব্যে স্যান্ডার্স স্বীকার করেন, তার তহবিল দাতাদের অনেকেই নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ সময় স্যান্ডার্সকে থামিয়ে এক নারী বলেন, কারণ আমরা তোমাকে ভালোবাসি। জবাবে স্যান্ডার্স বলেন, না, না, না। এটা আমার বিষয় নয়। এটা আমাদের হওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষ দিকে এসে উন্মুখ হয়ে থাকা মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময়েই ‘এখান আমরা কোথায় যাব’- শীর্ষক বক্তব্যের মূল করণীয় তুলে ধরেন তিনি। জানান, জুলাইয়ে ফিলাডেলফিয়াতে অনুষ্ঠিত দলের কনভেনশনে তার ডেলিগেটরা কর্মসূচির খসড়া তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। স্যান্ডার্সের ডেলিগেটদের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব রাখা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারি প্রক্রিয়া সংস্কার, টিটিপি বাণিজ্য চুক্তির অবসান, আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি ও বিতরণে নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র প্রদর্শণ আইনের ফাঁক বন্ধ করা।
স্যান্ডার্স বলেন, কনভেনশনে যে পাটাতন গড়ে উঠবে তা হবে দলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রগতিশীল পাটাতন। তিনি জানান, প্রগতিশীল প্রার্থীর পক্ষে তিনি সারা দেশে প্রচারণা চালাতে প্রস্তুত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/








