রাজধানী ঢাকার গুলশানের রেস্টুরেন্টে বন্দুকধারীদের হামলা ও জিম্মি সংকটে ইসলামিক স্টেটের দায় স্বীকারের খবর জানিয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, হামলার আইএস স্বীকার করলেও এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কিরবি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা আইএসআইএল (আইএস) এর দায় স্বীকারের বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু আমরা এখনই তা নিশ্চিত করতে পারছি না। প্রাপ্ত তথ্য আমরা পর্যালোচনা করছি।
হামলার পর দেওয়া ওই বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হামলায় নিহতদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিরাপদ আছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে গুলশানের রেস্টুরেন্টে হামলা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি হামলার বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় হামলার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। কী উদ্দেশে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য মেলেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জিম্মি পরিস্থিতিকে এখনও পরিবর্তনশীল বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে তাদের সব কর্মীদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সবাইকে নিরাপদ অবস্থানে থাকার এবং এ সংক্রান্ত খবর পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের একটি রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। রেস্টুরেন্টটি লেকভিউ ক্লিনিক ও নর্ডিক ক্লাবের কাছে অবস্থিত। এ ঘটনায় ডিবির এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ অর্ধশত আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান, এডিসি আহাদুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল প্রদীপ (২৮), পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর (২৬) ও মাইক্রোবাস চালক আব্দুর রাজ্জাক (৩০)। এ সময় হোটেলের ভেতরে ৪ জন জাপানি নাগরিকসহ প্রায় ২০ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। একই ভবনে ও কিচেন নামে আরেকটি রেস্টুরেন্ট আরও ৫জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি।
/এএ/








