হিজাব পরায় যুক্তরাষ্ট্রে এক মুসলিম নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত

বিদেশ ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০১৬, ১৮:৪০আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৬, ১৮:৪০

হিজাব পরিহিত নারীর প্রতীকী ছবিযুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে হিজাব পরিহিত এক মুসলিম নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ক্লিনিকের কর্মকর্তারা অফিসের ‘পরিবেশ নিরপেক্ষ’ রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।  ভার্জিনিয়িার ফেয়ারফেক্স কাউন্টির ফেয়ার ওয়াকস ডেন্টাল কেয়ারে একজন ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন নাজাফ খান। তিনি জানিয়েছেন, মুসলিম হিসেবে মাথা হিজাব দিয়ে ঢেকে কাজে আসার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এনবিসি ওয়াশিংটনকে নাজাফ খান বলেন, আমি খুব হতাশ। যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন আমি খুব ভেঙে পড়ি।

চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় হিজাব পরেননি নাজাফ। এমনকি নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম দুইদিনও অফিসে হিজাব পরেননি তিনি। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে তিনি হিজাব পরে অফিসে কাজ করা শুরু করেন। তিনি মনে করেন, তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে তিনি হিজাব পরা শুরু করেন।

নাজাফ জানান, যেদিন তিনি হিজাব পরে অফিসে যাওয়া শুরু করেন, সেদিনই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. চাক জো তাকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেন।  জো তাকে বলেন, অফিসে তারা নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে চান। কারণ হিজাব হলো ইসলামি পোশাক। যা অনেক রোগী পছন্দ করেন না। ক্লিনিককে তারা ধর্মীয় রীতির বাইরে রাখতে চান।

নাজাফ জানান, ড. জো তাকে আলটিমেটাম দেন- যদি হিজাব পরতে হয় তাহলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। আর চাকরি করতে হলে তাকে হিজাব পরা বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমি যখন বলি যে ধর্ম নিয়ে আমি কোনও সমঝোতা করব না তখন ড. আমার জন্য দরজা খোলা রেখে চলে যান।

জো জানান, ক্লিনিকে তারা এমন কিছুর প্রদর্শন করতে চান না যাতে ধর্মীয় আচার প্রকাশ পায়। তারা ক্লিনিকের পরিবেশ নিরপেক্ষ রাখতে চান। যদি কোনও কর্মচারী মাথায় কিছু পরতে চান তাহলে তাকে সার্জিক্যাল টুপি পরতে হবে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন বলেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত নয়। আমরা ডেন্টাল ক্লিনিকে ফোন করে নাজাফ খানকে চাকরিতে রাখার জন্য বলেছি।

অবশ্য নাজাফ জানিয়েছেন, পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হলেও ক্লিনিকটিতে তিনি আর কাজ করবেন না। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ফক্স নিউজ।

/এএ/

 

সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম