যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকে হিজাব পরিহিত এক মুসলিম নারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ক্লিনিকের কর্মকর্তারা অফিসের ‘পরিবেশ নিরপেক্ষ’ রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ভার্জিনিয়িার ফেয়ারফেক্স কাউন্টির ফেয়ার ওয়াকস ডেন্টাল কেয়ারে একজন ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন নাজাফ খান। তিনি জানিয়েছেন, মুসলিম হিসেবে মাথা হিজাব দিয়ে ঢেকে কাজে আসার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এনবিসি ওয়াশিংটনকে নাজাফ খান বলেন, আমি খুব হতাশ। যেদিন এই ঘটনা ঘটে সেদিন আমি খুব ভেঙে পড়ি।
চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় হিজাব পরেননি নাজাফ। এমনকি নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম দুইদিনও অফিসে হিজাব পরেননি তিনি। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে তিনি হিজাব পরে অফিসে কাজ করা শুরু করেন। তিনি মনে করেন, তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হিসেবে তিনি হিজাব পরা শুরু করেন।
নাজাফ জানান, যেদিন তিনি হিজাব পরে অফিসে যাওয়া শুরু করেন, সেদিনই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. চাক জো তাকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেন। জো তাকে বলেন, অফিসে তারা নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে চান। কারণ হিজাব হলো ইসলামি পোশাক। যা অনেক রোগী পছন্দ করেন না। ক্লিনিককে তারা ধর্মীয় রীতির বাইরে রাখতে চান।
নাজাফ জানান, ড. জো তাকে আলটিমেটাম দেন- যদি হিজাব পরতে হয় তাহলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। আর চাকরি করতে হলে তাকে হিজাব পরা বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, আমি যখন বলি যে ধর্ম নিয়ে আমি কোনও সমঝোতা করব না তখন ড. আমার জন্য দরজা খোলা রেখে চলে যান।
জো জানান, ক্লিনিকে তারা এমন কিছুর প্রদর্শন করতে চান না যাতে ধর্মীয় আচার প্রকাশ পায়। তারা ক্লিনিকের পরিবেশ নিরপেক্ষ রাখতে চান। যদি কোনও কর্মচারী মাথায় কিছু পরতে চান তাহলে তাকে সার্জিক্যাল টুপি পরতে হবে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশন বলেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারের কারণে কাউকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা উচিত নয়। আমরা ডেন্টাল ক্লিনিকে ফোন করে নাজাফ খানকে চাকরিতে রাখার জন্য বলেছি।
অবশ্য নাজাফ জানিয়েছেন, পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হলেও ক্লিনিকটিতে তিনি আর কাজ করবেন না। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ফক্স নিউজ।
/এএ/








