যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সোমবার নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
মুখপাত্র জানান, পৃথক একটি ঘটনায় ওই ব্যক্তিকে ওই দিন রাতেই আটক করা হয়। ইমাম ও তার সহকারী হত্যায় তার কোনও সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রবিবার সার্ভেইলেন্স ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। তার আগে শনিবার সন্দেহভাজন খুনির স্কেচ প্রকাশ করে।
শনিবার (১৩ আগস্ট) নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি ও তার সহকারী থারা উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওজোন পার্ক এলাকার আল ফুরকান জামে মসজিদ থেকে নামাজ শেষে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে তারা খুন হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তারা দুজনই ঐতিহ্যবাহী ইসলামি পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এর কয়েক মিনিট আগেই আল ফুরকান জামে মসজিদে তারা একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।
ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি (৫৫) ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। দুই বছরেরও কম সময় আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একজন প্রসিদ্ধ আলেম হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
নিহত ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র ভাই মাশুক উদ্দিন জানান, একটি বুলেট ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র মস্তিষ্কে আঘাত করে। মৃত্যুর আগে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমি খুবই মর্মাহত। পুরো শরীর কাঁপছে। কারও সঙ্গে তার কোনও বিরোধ ছিল না। তিনি শুধু মসজিদে যেতেন, নামাজ পড়তেন এবং বাসায় ফিরতেন। আমরা সবাই কান্নাকাটি করছি। এটা খুব বেদনাদায়ক।
ইমাম আলালা উদ্দিন আকুঞ্জি’র ভাতিজা ২৬ বছরের রাহি মাজিদ। তিনি জানান, প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কোনও ঝামেলা ছিল না।
রাহি মাজিদ বলেন, ‘তিনি একটি মাছিকেও আঘাত করতে পারেন না। আমি নিশ্চিত নই যে, কি ধরনের একটা পশু এই মানুষটিকে খুন করেছে।
হত্যার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, মুসলিমরা ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার। দুই মুসলিম হত্যার একদিন পর দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই হত্যকাণ্ডের পর স্থানীয় মুসল্লিরা দাবি করেন, এই গুলি করে হত্যার ঘটনা ছিল ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত। তবে পুলিশের দাবি, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই তারা নিহত হয়েছেন-এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
/এএ/








