কায়োপারনিকের বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদে শামিল হলেন আমেরিকান ফুটবলাররা

বিদেশ ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:১৫আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৭:১৫

জাতীয় সংগীতের সময় হাঁটু গেড়ে কলিনের প্রতিবাদআমেরিকান ফুটবল খেলোয়াড় কলিন কায়োপারনিকের বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) খেলোয়াড়রা। রবিবার ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ১৫তম বর্ষপূর্তির দিনে আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সংগীতের সময় হাঁটু গেড়ে বসে প্রতিবাদ করেন।

বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গত মাসে এনএফএল ফুটবল খেলোয়াড় কায়োপারনিক খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় সম্মানার্থে না দাঁড়িয়ে হাঁটুগেড়ে বসে প্রতিবাদ করেন। তার এই প্রতিবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রশংসিত ও সমালোচিত হয়।

রবিবার খেলা শুরুর আগে আরও বেশ কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড় কলিনের মতোই প্রতিবাদ করেন। তারাও মনে করেন, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন এবং কলিনের প্রতিবাদ জানানোর ভঙ্গি যথার্থ।

এনএফএল-এর টিম মিয়ামি ডলফিন খেলোয়াড়দের মধ্যে চারজন, আরিসান ফসটার, জেলানি জেনকিনস, মাইকেল থমাস ও কেনি স্টিলস স্টার স্প্যাঙ্গেলড খেলার শুরুতে জাতীয় সংগীতের সময় না দাঁড়িয়ে হাঁটু গেড়ে বসে থাকেন। তাদের বিপক্ষ দল সিয়াটল সেওয়াকসের খেলোয়াড়রা উঠে দাঁড়ালেও হাত সোজা না রেখে বুকের ওপর বেঁধে দাঁড়ান।

কলিনের প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন আরও ফুটবল খেলোয়াড়

এ প্রসঙ্গে এনএফএলের প্রধান খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিলো ৯/১১ কে স্মরণ করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা।’

ডলফিন দলের খেলোয়াড় জেলানি জেনকিনস বলেন, ‘এই প্রতিবাদ পরিবর্তন আনতে ও সচেতনতা তৈরি করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কেননা পরিবর্তন প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনী বা পুলিশ সদস্যদের অসম্মান করতে চাই না। এখানে এ প্রসঙ্গটাই নেই।’

এর আগে কলিনের প্রতিবাদকে সমর্থন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বয়ং। চীনে জি২০ সম্মেলনের সময় ওবামা বলেন, ‘আমি মনে করি তরুণরা বিতর্কে জড়াচ্ছে এবং চেষ্টা করছে কীভাবে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যারা দর্শক হিসেবে আছে এবং কিছুই খেয়াল করছে না তাদের চেয়ে এসব তরুণদের আমি চাই।’

ওবামা বলেন, ‘আমি অন্তত এটুকু মনে করি যে, তিনি একটি অবস্থান নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করছেন। আমার মনে হয় এধরনের কাজে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত মাসে গ্রিন বে প্যাকার্স-এর সঙ্গে নিজেদের মাঠে ওই খেলার আয়োজন করে স্যান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ারস। কলিন বর্ণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে খেলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত বেজে উঠতেই মাঠে বসে পড়েন।
কলিন জানিয়েছেন, দেশে বর্ণবাদী অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন।

কলিনের দল স্যান ফ্রান্সিসকো ৪৯এয়ারস তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, ‘আমরা ব্যক্তিগত প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করি। জাতীয় সঙ্গীতকে উদযাপন করা না করাটাও ব্যক্তিগত বিষয়। কলিনেরও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে।’

এনএফএল-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা জাতীয় সঙ্গীতের সময় খেলোয়াড়দের উঠে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু তা বাধ্যতামূলক নয়।

কলিন তার প্রতিবাদের সমর্থনে বলেছেন, ‘আমি এমন একটি দেশের পতাকাকে সম্মান জানিয়ে উঠে দাঁড়াতে চাই না, যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য মানুষকে রঙের ভিত্তিতে শোষণ করা হয়।’

এনএফএল মিডিয়াকে কলিন বলেন, ‘আমার কাছে এই প্রতিবাদ ফুটবলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ থেকে ভিন্ন কিছু চিন্তা করাটা আমার কাছে স্বার্থপরতা বলে মনে হয়।’

তবে কলিনের সমর্থনেও অনেকে কথা বলছেন। সাবেক বাস্কেটবল তারকা করীম আবদুল-জব্বার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস-এ লিখেছেন, ‘কলিন জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ায়নি, এটা আমেরিকানদের জন্য ভয়ের কারণ নয়। বরং প্রায় ৫০ বছর আগে মুহাম্মদ আলীকে বক্সিং থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলেন, টমি স্মিথ এবং জন কার্লোসকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, আমরা এখনও সেই বর্ণবাদী অবিচারের মধ্যেই রয়ে গেছি।’

বিতর্ক ও সমালোচনা হচ্ছে কলিনের। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কলিনের সমালোচনা করে তাকে অন্য কোনও দেশ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা ভয়াবহ ঘটনা। আর তার (কলিনের) উচিত এমন একটি দেশ খুঁজে নেওয়া, যা তার জন্য তিনি ঠিক মনে করেন। তিনি তা চেষ্টা করুক, তা কখনও তিনি পাবেন না।’  সূত্র: বিবিসি।

/ইউআর/এএ/

সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী