নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বপালনের জন্য ব্যবসায়ী রেক্স টিলারসনকে নির্বাচন করেছেন। তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল-এর প্রধান নির্বাহী এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই রুশ ও পুতিন ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ছিল। এবার একটি নথি ফাঁস হয়েছে যাতে দেখা যায়, তিনি ট্যাক্স হ্যাভেন বলে পরিচিত বাহামাভিত্তিক একটি রুশ-মার্কিন তেল কোম্পানির পরিচালকও ছিলেন।
ফাঁস হওয়া নথি অনুসারে ১৯৯৮ সালে রাশিয়ার অর্থায়নে এক্সন নেটফেগাস নামক কোম্পানির পরিচালক ছিলেন। পরিচালকদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের হুস্টন ও টেক্সাস এবং রাশিয়ার মস্কো ও সাখালিন এলাকার ব্যবসায়ীরা আছেন।
ফাঁস হওয়া নথিটি ২০০১ সালের। বাহামার কোম্পানি নিবন্ধকের কার্যালয়ে নিবন্ধনের সময় পরিচালকদের এ তালিকা দেওয়া হয়েছিল। জার্মানির পত্রিকা সুডেইচে জেইটুংকে অজ্ঞাত সূত্রের দেওয়া ১৩ লাখ নথির মধ্যে এ তালিকা পাওয়া গেছে। নিবন্ধন তালিকাটি প্রকাশ্য কিন্তু পরিচালকদের ব্যক্তিগত তথ্য অসম্পূর্ণ অথবা অস্পষ্ট।
৬৪ বছর বয়সী টিলারসন ৪১ বছর ধরে এক্সন মোবিলে কাজ করছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি রুশ রাষ্ট্রায়ত্ব তেল কোম্পানি রোসনেফটের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছেন।
২০১১ সালে রাশিয়ার ওপর মার্কিন আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় রোসনেফটের সঙ্গে এক্সনের যৌথ কাজের সমাপ্তি ঘটে। তখন রোসনেফটের সঙ্গে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ছিল এক্সনের। আর এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেন টিলারসন।
২০১৩ সালে রুশ কর্তৃপক্ষ বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে টিলারসনকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ পুরস্কার প্রদান করে।
এর পরের বছরই রুশ ফেডারেশনে ইউক্রেনের বিতর্কিত প্রদেশ ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তির ফলে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয় রাশিয়া। তখনও এই সিদ্ধান্তকে ‘ক্ষতিকর’ উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন টিলারসন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফল জানান, টিলারসনের সঙ্গে রোসনেফটের প্রধান নির্বাহী ইগোর সেচিনের ‘খুবই ঘনিষ্ট’ সম্পর্ক রয়েছে। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ইগোর সেচিন ১৯৯০ সাল থেকে ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধু। মার্কিন নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের জন্য ইগোর সেচিনকে সরাসরি দোষারোপ করছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/








