যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আড়ি পাতার অভিযোগ নাকচ করেছেন। দেশটির গত নির্বাচনের আগে এ আড়িপাতা হয় বলে শনিবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন।
সোমবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কমি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রতি ওবামার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিচার বিভাগ কমির এই নির্দেশ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কমি মনে করেন বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এমন অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রমাণ নেই।
উল্লেখ্য, মার্কিন আইনে শুধু বিদেশি শক্তির সঙ্গে জড়িত এজেন্টদের ফোনের আড়িপাতার অনুমোদন দেওয়া যায়।
ট্রাম্পের অভিযোগের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ দেশটির কংগ্রেসকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলেছে। যদিও ট্রাম্প এ অভিযোগের কোনও প্রমাণ হাজির করেননি।
ট্রাম্পের প্রেস সচিব শন স্পাইসার জানিয়েছেন, এই তদন্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা উচিত।
ট্রাম্প এ অভিযোগ তোলার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতা প্রমাণ হাজির করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু প্রমাণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা তার কোনও মুখপাত্র কোনও মন্তব্য করেননি।
তবে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প শিবিরের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে রুশ কর্মকর্তাদের গোপন যোগাযোগ নজরদারি করতে এফবিআই আদালতের অনুমতি চেয়েছিল। সেই অনুরোধ প্রথমে প্রত্যাখ্যান করলেও অক্টোবরে এফবিআইকে অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আদালত বা এফবিআই এই ধরণের অনুমতির কথা নিশ্চিত করেনি।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের কেলেঙ্কারি থেকে নজর সরাতে ট্রাম্প ওবামার বিরুদ্ধে মনগড়া এ অভিযোগ হাজির করেছেন।
গত শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে ওবামা আড়ি পাতেন। টেলিফোনে আড়ি পাতার বিষয়ে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্পের অভিযোগ নাকচ করেছেন তিনি। ওবামার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
এর আগে ওবামার বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং স্পীচরাইটার বেন রোডেস টুইটারে এক বার্তায় বলেন, ‘কোন প্রেসিডেন্ট টেলিফোনে আড়িপাতার নির্দেশ দিতে পারেন না। সাধারণত নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরণের নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ করা হয়।’ ওবামার আরেক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্পের অভিযোগ একেবারে নির্জলা মিথ্যা।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারে রাশিয়ার যোগসাজশ নিয়ে যৌথ তদন্ত করছে এফবিআই ও কংগ্রেস। সূত্র: বিবিসি।
/এএ/








