মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-টুয়েন্টি সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অসাধারণ সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের এই প্রশংসা ফিকে হয়ে গেছে যখন হোয়াইট হাউস চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান ও প্রেসিডেন্টকে ভুল করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জি-টুয়েন্টি সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন ট্রাম্প ও শি জিনপিং। শনিবার হামবুর্গের দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই রাষ্ট্রনেতা বৈঠক করেন। তাদের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি ও বাণিজ্য নিয়েই আলোচনা হয় বেশি।
বিশ্বের বৃহৎ দুটি অর্থনীতির দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে ট্রাম্প বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে বৈঠকে শি-কে বলেন, ‘আপনাকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া সম্মানের’। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের বিবৃতিতেই একথা বলা হয়েছে।
অবশ্য ওই বিবৃতিতেই একটি গুরুতর ভুল ছিল। প্রেস সচিবের বিবৃতিতে শি জিনপিংকে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট নয়, উল্লেখ করা হয়েছে চীন প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। চীন প্রজাতন্ত্র হচ্ছে তাইওয়ানের রাষ্ট্রীয় নাম।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে স্নাতক পাস করেছেন। চীনা ভাষায় কথা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী হিসেবে তাকে মনে করা হয়। আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিরোধিতাকারীও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট।
এই ঘটনায় চীনা বিশেষজ্ঞরা সমালোচনা করছেন হোয়াইট হাউসের।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের নতুন কিছু না। এর আগে ২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে শির পূর্বসূরী হু জিনতাও যুক্তরাষ্ট্র সফরকালেও এধরনের ভুল করে হোয়াইট হাউস। ওই সময় তাইওয়ানের জাতীয় সংগীতকে চীনের হিসেবে বাজানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চীনকে তাইওয়ানকে নিজের প্রদেশ মনে করে। একইভাবে তাইওয়ান পুরো চীনকেই নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নামও চীন প্রজাতন্ত্র। তাইওয়ান ও বেইজিং একই অঞ্চলের মালিকানা দাবি করায় বিদেশি রাষ্ট্রগুলো উভয়কেই স্বীকৃতি দিতে পারে না। বেইজিং বাকি দেশগুলোকে এক চীন নীতি সমর্থনে চাপ দিয়ে আসছে। প্রায় সব দেশই বেইজিংয়ের এ অবস্থান মেনে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সুনির্দিষ্ট এক চীন নীতি অনুসরণ করে।
নির্বাচিত হওয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নীতি ভঙ্গ করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলার পর চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এএ/







