জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশের আরও করণীয় আছে: ট্রাম্প প্রশাসন

ললিত কে ঝা, হোয়াইট হাউস
০২ মার্চ ২০১৮, ০০:৪৩আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৮, ০০:৪৫

 

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে বাংলাদেশের আরও করণীয় রয়েছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কিন কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে, জিএসপি ফিরে পেতে কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আরও অগ্রসর হতে হবে। এর মধ্যে কর্মীদের নিরাপত্তা, সংগঠন করার স্বাধীনতা, শ্রমিক নেতাদের প্রতিহিংসামূলক সহিংসতা থেকে সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)-এর পক্ষ থেকে কংগ্রেসে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যনীতি-সংক্রান্ত এজেন্ডা ও বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।

ইউএসটিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যদিও এসব বিষয়ের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নতি করেছে, বিশেষত কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে। তবে জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারের আগে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। বিশেষ করে ইউনিয়নগুলোর নিবন্ধনের কঠোর শর্তাবলিসহ সংগঠন করার স্বাধীনতা ও শ্রমিক নেতাদের প্রতিহিংসামূলক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।’

শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে এই জিএসপি পুনর্বহালের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নানা পদক্ষেপ নিলেও এখনও পর্য্ত সুফল মেলেনি।

এই সুবিধা স্থগিতের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ। প্রতি বছরই ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠায় ইউএসটিআর। শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার সমস্যা মোকাবিলায় নেওয়া উদ্যোগ মূল্যায়নের জন্য তাদের পাঠানো হয়।

২০১৭ সালে সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট বিষয়ক এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয় ইউএসটিআর। এতে বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিতি ছিলেন।

২০১৭ সালের জুনে দেশের রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের সংগঠন করার বৃহত্তর অধিকার দেওয়া এবং কর্মীদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার আরও ভালোভাবে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ সরকার।

ইউএসটিআর বলছে, ‘বছর শেষে বাংলাদেশ সরকার কোনও আইন সংস্কারের ব্যাপারে অগ্রসর হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো (টিকফা) নিয়ে ২০১৭ সালের মে মাসে ঢাকায় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয় বাংলাদেশের। টিকফা দুই দেশের সরকারের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ করে দেয়। এছাড়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মীদের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি জোরদার করতে ইউএসটিআর তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একইসঙ্গে টিকফার মাধ্যমে বাজারে প্রবেশাধিকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বাধার ব্যাপারেও দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, শ্রম দফতর এবং ইউএসএআইডি জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারজনিত উদ্বেগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

ইউএসটিআর সাস্টেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর বৈঠক আহ্বান করবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডা সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সঙ্গে কাজ করবে সংস্থাটি। এছাড়া অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (দ্য অ্যালায়েন্স) এবং বাংলাদেশ অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি (দ্য অ্যাকর্ড)-এর মতো বহুমুখী অংশীদারী উদ্যোগেও সহযোগিতা করবে ইউএসটিআর।

২০১৮ সালের জুনে বাংলাদেশে জোটের বিদ্যমান কার্যক্রম বন্ধ হবে। কিন্তু একটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। ইউএসটিআর সাবধানতার সঙ্গে নতুন উদ্যোগে রূপান্তর এবং এর বাস্তবায়নের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

 

/এমপি/এমএনএইচ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
সর্বশেষ খবর
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী