যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য বা প্রযুক্তি রফতানিতে জড়িত থাকা পাকিস্তানের ৭টি প্রতিষ্ঠানকে রফতানি নজরদারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের প্রতি দেশটির সম্প্রতি নেওয়া কঠোর মনোভাবের কারণে হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও পণ্য রফতানিকারকদের সংগঠন এনএসজিতে তার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে ভারত এ ঘোষণার পর। রফতানি নজরদারি তালিকায় পাকিস্তানি ওই প্রতিষ্ঠানগুলির অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।
রফতানি নজরদারির ওই তালিকাতে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় যাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বা পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থবিরুদ্ধ কাজে জড়িত হয়েছে বা জড়িত হওয়ার বড় আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। রফতানি নজরদারি তালিকায় নাম ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের (ইএআর) আওতায় থাকা পণ্য কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আলাদা করে অনুমতি নিতে হয়। ওই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করাটা যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে দেখা হয়। এর মূল লক্ষ্য, সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে এমন প্রযুক্তি ও পণ্যের রফতানি আটকে দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নজরদারি তালিকায় নাম ওঠানো প্রতিষ্ঠানগুলোর খবর গত বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে দেশটির ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি ব্যুরো। তারা জানিয়েছে, নজরদারি তালিকায় নাম লেখানো প্রতিষ্ঠানগুলোর তিনটি অনসুরক্ষিত পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছিল। অন্য দুটি পরমাণবিক শক্তি সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য বা প্রযুক্তি কিনেছিল এবং আরও দুই প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সাহায্য করেছিল। এই পর্যায়ে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মোট ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে নজরদারি তালিকায় রেখেছে তারা, যার মধ্যে ১৫টি দক্ষিণ সুদানের।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ভারতের কর্মকর্তারা এ নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান নজরদারি তালিকায় থাকলে ‘নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপে’ (এনএসজি) ভারতের যোগদান সহজ হবে। পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি রফতানিকারক দেশগুলোর ওই জোটে যোগ দেওয়াটা বাধাগ্রস্ত হবে পাকিস্তানের জন্য।
হিন্দুস্তান টাইমসের ওই দাবির কথা উল্লেখ করে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তুরস্ক ও চীনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করেছে। ওই দুই দেশই জানিয়েছে, পাকিস্তানের এনএসজির সদস্য হওয়ার মতো সক্ষমতা আছে। তাছাড়া পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনার বিষয়ে পূর্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রশংসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।








