শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রমের সাবেক চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্টকে হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পকে জিতিয়ে আনতে রাশিয়া প্রভাব বিস্তার করেছিল কি না সে বিষয়ে চলমান তদন্তের প্রধান রবার্ট মুলার অন্য একটি অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ এনেছেন। ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার সংশ্লিষ্ট না হলেও, তার রুশ যোগাযোগের ইঙ্গিতবাহী। ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে বিচার শুরু না হলেও তাকে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছিল। জামিনে থাকা ম্যানাফোর্টের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তাকে বিশেষ যন্ত্রও পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার আদালত জামিন বাতিল করে দিয়ে তাকে হাজতে পাঠাবার নির্দেশ দিয়েছেন। সহকর্মীর এমন শাস্তির খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
পল ম্যানাফোর্ট একজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রিপাবলিকান দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া রবার্ট মুলার তার বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচারের মত আর্থিক অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ এনেছেন। ওই প্রসঙ্গে শুক্রবার আদালত ম্যানাফোর্টের জামিন বাতিল করে দেন। এ সময় বিচারক অ্যামি বেরম্যান মন্তব্য করেন, ‘এমন রায় দেওয়াটা আমার শখ নয়; কিন্তু আমি তো না দেখার ভান করে থাকতে পারি না। আপনি বিশ্বাস নষ্ট করেছেন।’ ম্যানাফোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে: তিনি যে মস্কোপন্থী ইউক্রেনীয় রাজনৈতিক দলের পক্ষের তদবিরকারী, তা তিনি ঘোষণা করেননি। ইউক্রেনের সাবেক মস্কোপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচের দলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাছাড়া, ইয়ানুকোভিচের দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে তদবির করার প্রমাণ নষ্ট করেছেন তিনি।
আদালতের রায়ের পর ম্যানাফোর্টের আইনি কার্যক্রমের ব্যয় নির্বাহে সৃষ্ট তহবিল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে এক টুইটার বার্তায় লেখা হয়েছে, ‘কেন তাকে একটি পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?’ রয়টার্স লিখেছে, তাদের বক্তব্য ট্রাম্পের বক্তব্যেরই অনুরূপ। রবার্ট মুলারের তদন্তের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আসছেন যে তদন্তটি নিছকই রাজনৈতিক ‘উইচ হান্ট।’ তিনি একসময় রবার্ট মুলারকে বরখাস্তও করতে চেয়েছিলেন। ম্যানাফোর্টের বিষয়ে ট্রাম্প তার টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বাহ! ম্যানাফোর্টের জন্য এমন শাস্তি! আমি জানতাম না ম্যানাফোর্ট এত বড় অপরাধী। এটা খুবই বড় অবিচার।’ রয়টার্স লিখেছে, ম্যানাফোর্টকে এখনও নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। শুধু তার জামিন বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্স লিখেছে, বিচার শেষে যদি সাজাপ্রাপ্তও হন, তাহলেও ট্রাম্প তার সাজা মার্জনা করে দিতে পারেন।








