যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অযথার্থ’ প্রশ্ন করার জেরে সিএনএনের একজন সাংবাদিককে নিষিদ্ধ করেছে হোয়াইট হাউজ। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কেইটল্যান কলিন্স একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তার আইনজীবী ও পুতিনের সফর বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তাকে পরবর্তীতে রোজ গার্ডেনের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা হয়। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, ওই সাংবাদিক চিৎকার করে প্রশ্ন করছিলেন এবং যেতে বলার পরও ওই স্থান ত্যাগে রাজি হচ্ছিলেন না। সংবাদমাধ্যম বিবিসি উল্লেখ করেছে, ট্রাম্প অনেকবার সিএনএনকে ‘ভুয়া খবরের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। এমন কি সিএনএনের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান জিন ক্লদ জানকারের উপস্থিতিতে ট্রাম্পের এক অনুষ্ঠানে সিএনএনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদক হিসেবে গিয়েছিলেন কলিন্স। তার ভাষ্য, তিনি ট্রাম্পের কাছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সফর স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং সম্প্রতিফাঁস হওয়া ট্রাম্পের আইনজীবীর অডিও রেকর্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। ট্রাম্প এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প ও জানকারের অনুষ্ঠানে তাকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। হোয়াইট হাইজের পক্ষ থেকে কলিন্সকে জানানো হয়েছে, তিনি ট্রাম্পকে যে প্রশ্ন করেছেন তা ওই অনুষ্ঠানের জন্য প্রাসঙ্গিক নয়।কলিন্স পরবর্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য নিষিদ্ধ হলেও সিএনএনের অন্যান্য সাংবাদিকরা সেখানে যেতে পারবেন।
সিএনএন এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এই ব্যাবস্থা প্রতিক্রিয়ামূলক এবং মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অনুকূল নয়। সিএনএনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফক্স নিউজও ওই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে। ট্রাম্প ফক্স নিউজের একনিষ্ঠ সমর্থক হলেও ফক্স নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট জে ওয়ালেস বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিতে আমরা দৃঢ়ভাবে সিএনএনের পাশে আছি।’
কলিন্স যে দুইটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন তার একটি ছিল ট্রাম্পের আইনজীবী মাইকেল কোহেনের বিষয়ে। কোহেন ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া তার কথাবার্তা গোপনে রেকর্ড করেছিলেন। সাবেক প্লেবয় মডেলের মুখ বন্ধ রাখার জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ওই সময় কোহেনের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। অডিও রেকর্ডটি কোহেনের অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তা সংবাদমাধ্যমের কাছে চলে যায়।
অপর প্রশ্নটি ছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার বিষয়ে। পুতিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর যে বিলম্বিত হবে সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ বিবৃতি দিয়েছে।








