মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আমন্ত্রণ জানানোর পর রাশিয়া সফরে যেতে আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
শুক্রবার পুতিন জানান, উপযুক্ত শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বৈঠকের জন্য ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে ট্রাম্প ও পুতিন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। মস্কো সফরের এই আমন্ত্রণ এমন সময়ে আসলো যখন হোয়াইট হাউস পুতিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর পরবর্তী বছরের শরৎ পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
হোয়াইট প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী বছরের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী। রাশিয়ার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেলে মস্কো সফরেও সম্মতি রয়েছে প্রেসিডেন্টের।
ট্রাম্পকে পুতিনের আমন্ত্রণের খবরের প্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস এই বক্তব্য জানালো। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া পুতিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি ওয়াশিংটনে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে তার আগে আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অবশ্য পুতিন উপযুক্ত পরিবেশের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।
মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। হেলসিংকির বৈঠকে উভয় নেতার আলোচ্য সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, গত ১৬ জুলাই ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকে দুই বিশ্বনেতার মধ্যে সিরিয়া সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা শরণার্থীদের সিরিয়াতে ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আলাপ করেছেন।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ঘরে-বাইরে দুই দিক থেকেই চাপের মুখে ছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা রবার্ট মুলার। অন্যদিকে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রতিমন্ত্রী রড রোজেন্সটেইন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার ঘটনায় ১২ রুশ নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে যোগ না দিতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাটদের চেয়ারম্যান টম পেরেজের ভাষ্য, ‘পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নয়।’ ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানরাও ট্রাম্পকে ওই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সিনেটর ম্যাককেইন মন্তব্য করেছিলেন, ট্রাম্প যদি পুতিনকে দায়ী করার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে না থাকেন, তাহলে তার উচিত হবে না ওই বৈঠকে যোগ দেওয়া।








