সিরিয়ার নির্বাসিত কার্টুনিস্ট নাজাহ আল বুকাইয়ের আঁকা স্কেচে ফুটে উঠছে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ ও তার বাহিনীর চালানো অবর্ণনীয় নিপীড়নের চিত্র। তিনি নিজেও একসময় আসাদের কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেখানে নির্যাতনে মারা যাওয়া বন্দিদের লাশ বহনের কাজও করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, শিল্পের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া ও ‘বিপ্লবকে’ এগিয়ে নেওয়ার কাজ করে যেতে চান শিল্পী বুকাই।
নাজাফ আল বুকাই ২০১১ সালে প্রথমবার আটক হয়েছিলেন। তাকে ১১ মাসের জন্য কারাবন্দী করে রাখা হয়েছিল ক্যাম্প ২২৭-এ, যা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কতে অবস্থিত। আসাদ বিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করার দায়েই তার এই কারাভোগ। ২০১৪ সালে আবার তাকে গ্রেফতার করা হয় সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত থেকে। প্রায় দুই বছর শ্বশুরবাড়িতে লুকিয়ে থাকার পর তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিরিয়া ত্যাগের চেষ্টা করছিলেন ওই সময়। এখন তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ফ্রান্সে থাকেন।
বাসাদ আল আসাদের কারাগারের দুঃসহ স্মৃতির কথা ভুলতে পারেন না বুকাই। সেখানকার নির্মমতার স্মৃতি এখনও তাকে তাড়া করে ফেরে। তার ভাষ্য, ‘কারাগারে একটা ১৬ মিটার দীর্ঘ ও ৩ মিটার প্রশস্ত কক্ষে আমরা ১৯০-২২০ জন বন্দি একসঙ্গে ছিলাম । সেখানেই জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম চলত। জিজ্ঞাসাবাদকারীরা বিভিন্ন উপায়ে চালাত বন্দিদের ওপর। সবচেয়ে খারাপ বিষয় ছিল লাশ সরাবার কাজ। কোনও কোনও দিন আমাদেরকে হয়তো তিনটি লাশ সরাতে হতো, আবার কোনও দিন হয়তো ১৩টি। এদের কেউ হয়তো নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মারা গেছে, আর কেউ হয়তো কারাগারের অসুস্থ পরিবেশে অসুখে ভুগে।’
রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের মধ্যে হাজার হাজার সিরীয় অ্যাক্টিভিস্টকে বন্দি করার বিষয়ে সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা ও কারাগারে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সিরীয় সরকার অধিকারকর্মীদের গুম করে ফেলার বিষয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অথচ শিল্পী বুকাই নিজেই সেই নির্যাতন প্রত্যক্ষ করেছে, ভুক্তভোগী হয়েছেন নিপীড়নের।
কারাগারে বন্দি সিরীয়দের ওপর হওয়া নিপীড়ন ও বন্দিদের বোবা আর্তনাদকে একটি কালো কালির ক্লমের টানেই ফুটিয়ে তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি যতবারই বিষয়টি পরিবর্তনের চেষ্টা করি, ততবারই দেখি আবার একই বিষয়ে ফিরে এসেছি। আমি যদি এ বিষয়ে কার্টুন না আঁকি তাহলে বাসার আল আসাদকে এই বার্তাই পাঠানো হবে যে সে জিতে গেছে।’








