যুক্তরাষ্ট্রে বিনাবিচারে দশদিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ইরানের প্রেস টিভির সাংবাদিক মারজিয়া হাশেমি অভিযোগ করেছেন, বন্দি অবস্থায় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
১৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরির সেন্ট লুইস ল্যাম্বার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এই সাংবাদিককে বিনা অভিযোগে আটক করে এফবিআই। কারাগারে ১০ দিন আটক থাকার পর বুধববার তিনি মুক্তি পান। হাশেমিকে আটক ও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ না করায় যুক্তরাষ্ট্রে ও বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য কাজ সংগঠন ও মুসলিম সংগঠন সমালোচনা করে। এসব সংগঠনের মধ্যে ধিছল কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস ও কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স।
মারজিয়া হাশেমি জানান, তাকে আটকের পর মার্কিন গোয়েন্দারা ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেহ থেকে ডিএনএ নিয়েছে। পরে ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আরেকটি নির্যাতন কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার পোশাক খুলে তল্লাশি করা হয়। তিনি বলেন, আমি বাস্তব জীবনে মুসলিম এবং ইসলামের চর্চা করি পাশাপাশি হিজাব পরি। তারপরও মার্কিন গোয়েন্দারা এ ধরনের অন্যায় করতে দ্বিধা করেনি।
ইরানি সাংবাদিক জানান, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তিনি মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের হাতে নাজেহাল হয়েছিলেন। এবারের আটকের ঘটনা নাজেহাল ও নির্যাতনের নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মার্কিন সরকারের অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন হাশেমি। তিনি বলেন, এটা হলো এমন বিষয় যার সমালোচনা হওয়া উচিত। এটা আমার সম্পর্কে কিছু না। এটা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও সরকার নিয়ে। তারা মনে করে জনগণের অধিকার লঙ্ঘণ করতে পারবে, রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারবে, সাক্ষী হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ দায়ের না করেই অনির্দিষ্টকাল আটক রাখতে পারবে।
হাশেমি জানিয়েছেন তাকে হিজাব খুলতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাকে হালাল খাবার দেওয়া হয়নি। কারাগারে বন্দি অবস্থার অভিজ্ঞতার তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি হিজাব পরতে চেয়েছি বলে জানিয়েছি। আমি মুসলিম নারী। হিজাব পরার অধিকার আমার রয়েছে, এটা ধর্মীয় স্বাধীনতা। আপনারা যা করছেন তা বেআইনি।
ইরানি সাংবাদিক জানান, প্রথম তিনদিন প্রায় কিছুই খাননি। এক কারা কর্মকর্তা তাকে একটি আপেল দিয়েছিলেন তিনি তা খেয়েছেন।








