মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি বিমানের একটি বিমানবাহী ক্যারিয়ার ও একটি বোমারু টাস্কফোর্স মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে হুঁশিয়ারি জানাতে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে বা কোনও মিত্র যদি হামলার শিকার হয় তাহলে ইরানকে ‘অপ্রতিরোধ্য শক্তির’ মুখোমুখি হতে হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়া ঘোষণার পর থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। আধিপত্য বিস্তার, মানবাধিকার হরণ ও সন্ত্রাসে মদদের অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে আইআরজিসি সম্পৃক্ত বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান।
সর্বশেষ, এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ডসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো অন্য কোনও দেশের সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আখ্যা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অবৈধ বলে দাবি করে আসছে ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত সব মার্কিন সেনাকে সন্ত্রাসী ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সন্ত্রাসের মদদদাতা উল্লেখ করে একটি আইন পাস করেছে ইরান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই রবিবার জন বোল্টন বলেছেন, অনেকগুলো আপত্তিকর, উত্তেজনার ইঙ্গিত ও সতর্কতার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বোমারু দল ও জঙ্গি বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জন বোল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসকদের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। কোনও বিকল্প, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কিংবা নিয়মিত সেনা; যারাই হামলা চালাক না কেন আমরা তা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি।
এদিকে, শনিবার রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বন্ধ হবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সহযোগিতা আগের মতোই থাকবে।








