মার্কিন কংগ্রেসে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চতুর্থ ত্রাণ প্যাকেজ পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাস হওয়া প্যাকেজের আর্থিক মূল্য ৪৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ৩৮৮-৫ ভোটে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার সিনেটে সর্বসম্মতিতে পাস হওয়া বিলটি দ্রুত স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
করোনায় আক্রান্ত ও প্রাণহানির ক্ষেত্রে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ১৭৬ জনের। ফলে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৮৬১ জন। দেশটিতে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ২৬ হাজার ৯৭১ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪৬ জন।
বৃহস্পতিবার ত্রাণ প্যাকেজটি পাস হওয়ার ফলে করোনা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ত্রাণ তহবিল ৩ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এতে করে দেশটি রেকর্ড মাত্রায় বাজেট ঘাটতিতে পড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটরা আরেকটি ত্রাণ বিল পাস করতে চাইছেন, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার। কিন্তু ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের সদস্যরা এটি পাসে আগ্রহী নন।
বৃহস্পতিবারের প্যাকেজে পেচেক প্রটেকশন প্রোগ্রামের জন্য ৩১০ বিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। গত মাসে পাস হওয়া প্যাকেজে এই খাতের জন্য ৩৪৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই তহবিল মাত্র ১৩ দিনে ফুরিয়ে যায়। এতে সংকটে পড়েন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দেশটির বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই তহবিল থেকে ঋণ গ্রহণের খবর প্রকাশিত হলে সমালোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ৭ মে’র মধ্যে এসব কোম্পানিকে জরিমানা ছাড়া অর্থ ফেরত দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছে।
বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় ডেমোক্র্যাটরা হাসপাতাল ও করোনা পরীক্ষার বরাদ্দ দিতে চেয়েছিল। এই তহবিল থেকে হাসপাতালগুলো পাবে ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং করোনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে ২৫ বিলিয়ন ডলার।
ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে, এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ত্রাণ প্যাকেজ। করোনার কারণে লকডাউনে হাজার হাজার আমেরিকানকে বাধ্য করেছে বেকার ভাতার জন্য আবেদন জানাতে অথবা খাদ্য ব্যাংকের সামনে লাইন করে দাঁড়াতে। পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে পারা নিয়ে সংশয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।








