ধারণার চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে তালেবানরা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সুযোগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, কিন্তু তারা স্বেচ্ছায় তা তালেবানের হাতে তুলে দেয়।
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি দেশ ছেড়ে পালালে কাবুলের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ একাধিক গোষ্ঠীর হাতে যেতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তালেবানের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমঝোতায় পৌঁছান বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন।
ওই কর্মকর্তার মতে, তালেবানের রাজনৈতিক নেতা আব্দুল গণি বারাদার যুক্তরাষ্ট্রকে বলেন, ‘আপনাদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। কাবুলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিন অথবা আমাদের তা করার সুযোগ দিন’।
তালেবানের এ প্রস্তাবের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন সেনারা দায়িত্ব না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে যেতে চেয়েছেন। এছাড়া চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র পুরো আগস্ট মাস কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যদিও শহর থাকবে তালেবানের নেতৃত্বে।
ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের কোনও পরিকল্পনা ছিল না তালেবানের। কিন্তু আশরাফ গণির পালিয়ে যাওয়া এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হতো। যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয়, তালেবানকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
তালেবান কমান্ডার মুহাম্মদ নাসির হাক্কানিও এতে অবাক হয়েছেন। তিনি ও তার যোদ্ধাদের শহরের বাইরে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই দিনেই তারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টার মধ্যে তা দখল করতে সক্ষম হন।
হাক্কানি বলেন, আমরা একজন সেনা বা পুলিশ সদস্যকে দেখিনি। আমরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, আমরা এত খুশি ছিলাম। আমাদের বেশিরভাগ যোদ্ধা কাঁদছিল। আমরা কখনও ভাবিনি এত দ্রুত কাবুল দখল করতে পারবো। সূত্র: ফক্স নিউজ









