থেরানস প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমস বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রায় একমাস দীর্ঘ বিচার শেষে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এই রায় দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
প্রসিকিউটর জানান, সচেতনভাবে এলিজাবেথ তার কোম্পানির প্রযুক্তি নিয়ে মিথ্যা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কয়েক ফোটা রক্ত থেকে তার প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে।
জুরিরা এলিজাবেথকে বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে প্রতারণার ষড়যন্ত্র ও তিনটি জালিয়াতি মামলায় দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
এলিজাবেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে প্রতিটি অভিযোগের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে।
তাকে এখনও কাস্টডিতে নেওয়া হয়নি। সাজা ঘোষণার তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে আরও শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
এলিজাবেথের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা সংশ্লিষ্ট চারটি অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
এক সময় থেরানস কোম্পানির বাজারমূল্য ছিল ৯০০ কোটি ডলার। বায়োটেক ও সিলিকন ভ্যালিতে কোম্পানিটির বেশ নামডাক ছিল। রুপার্ট মুরডখ ও টেক মুঘল ল্যারি এলিসনের মতো ধনকুবেরদের কাছ থেকে ৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছিলেন এলিজাবেথ।
কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসার। তাদের দাবি ছিল, কয়েক ফোটা রক্ত থেকে তাদের প্রযুক্তি ক্যানসার ও ডায়বেটিসের মতো রোগ শনাক্ত করতে পারবে।
কিন্তু ২০১৫ সালে থেরানসের দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হতে শুরু করে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয় রক্ত পরীক্ষার এই প্রযুক্তি কাজ করছে না। এরপরই সমালোচনার মুখে পড়তে শুরু করে কোম্পানিটি।









