ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য কী অবদান রাখতে পারে ইউরোপীয় দেশগুলো? ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে এমন এক প্রশ্নমালা পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর তারপরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দেশ দুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা হয়েছে, তাতে ইউরোপকে যুক্ত করা হবে না বলে জানালেন ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত কেইথ কেলগ। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ কথা বললেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মিউনিখ সম্মেলনে কেলগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে, যেখানে ইউক্রেন ও রাশিয়া প্রধান আলোচক থাকবে।
ইউরোপীয় দেশগুলো আলোচনার টেবিলে থাকবে কি না জানতে চাইলে কেলগ বলেন, ‘আমি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। আমি মনে করি এটি ঘটবে না।’
পরবর্তীতে একই সম্মেলনে কেলগ ইউরোপীয়দের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হবে না বা ব্যবহার করা হবে না।’
তবে ইউরোপীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারা আলোচনার বাইরে থাকা মেনে নেবেন না। কেলগের এই মন্তব্যের পর রবিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক আলোচনায় ইউরোপের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মিউনিখে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা ইউক্রেন, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ বা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কোনও আলোচনা বা সমঝোতা ইউরোপীয়দের বাদ দিয়ে করতে দেব না।’
আর কেইথ কেলগ বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল; কারণ, ওই আলোচনাগুলোর সঙ্গে অনেক দেশ যুক্ত ছিল। ওই দেশগুলোর এ ধরনের আলোচনা কার্যকর করার কোনও যোগ্যতা ছিল না। এবার আলোচনার ক্ষেত্রের আগের ওই পথ অনুসরণ করা হবে না।
তিনি জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য পাঠানো মার্কিন প্রশ্নপত্র তাদের ভাবতে বাধ্য করবে।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিক জানিয়েছেন, মার্কিন ওই প্রশ্নপত্রে ছয়টি প্রশ্ন রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিশেষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য।
শান্তি আলোচনা থেকে যে ইউরোপকে বাদ দেওয়া হতে পারে, তা এর আগে মিউনিখ সম্মেলনেই সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে ইউরোপকে আরও তৎপর হওয়ার এবং নিজস্ব একটি সেনাবাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প এই সপ্তাহে তার ইউরোপীয় মিত্রদের চমকে দিয়েছেন। কারণ তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আগেভাগে কোনও আলোচনা ছাড়াই ফোন করেন এবং শান্তি আলোচনা অবিলম্বে শুরু করার ঘোষণা দেন।







