গাজায় ইসরায়েলি হামলার ‘সামরিক যুক্তি’ নেই : ওবামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৩আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৩

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্থানের ওপর আঘাত চালিয়ে যাওয়ার কোনও সামরিক যুক্তি নেই। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র স্বীকৃতির পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেছেন ওবামা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

ওবামা বলেন, ‘আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যারা সরাসরি সহিংসতার অংশ নই, তাদের এখনই স্বীকার করা উচিত যে, শিশুদের ক্ষুধার্ত হতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজার ভিতরে যে মানবিক সংকট চলছে তা উপেক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য। আমাদের অবশ্যই জোর দিয়ে বলা উচিত যে, উভয় পক্ষকে এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে একটি নিরাপদ ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং স্বায়ত্তশাসন বিদ্যমান থাকবে।’

গাজা যুদ্ধ নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরল মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এই ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং বিশ্ব নেতাদের ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন।

রাজনৈতিক নেতাদেরও সমালোচনা করেছেন ওবামা। বিশেষ করে নেতানিয়াহুসহ যারা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জটিল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, আমরা সব সময় সব বিষয়ে একমত ছিলাম না। দুঃখজনকভাবে, অনেক সময় নেতৃত্ব এবং রাজনীতিবিদরা এমন একটি স্বার্থপর সম্পর্ক বজায় রাখেন এটা শুধু ‘আমরা বনাম তারা’। কারণ, এতে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকা সহজ হয়। এটা একটি প্রলোভনমূলক খেলা। আমি আমার প্রেসিডেন্সির সময় দেখেছি, আমি সবসময় ওই অঞ্চলে জনপ্রিয় ছিলাম না। কারণ আমি তাদের এই ব্যাপারে কথা বলতাম।

জনগণকে ঝুঁকিতে ফেলে সমস্যার সমাধান করার হামাসের নিষ্ঠুর পদ্ধতিরও সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সব জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা আবশ্যক।

ওবামা জোর দিয়ে বলেন, গাজা উপত্যকার মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ‘অনুমতি দিতে হবে’।

ইসরায়েল এই মাসের প্রথম থেকে গাজা শহরে স্থল অভিযান শুরু করেছে। হামাসের শেষ অবশিষ্ট ঘাঁটি লক্ষ্য করার কথা বললেও, তাদের উদ্দেশ্য শহরটি দখল এবং অধিগ্রহণ করা।

জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, গাজা শহরে ইসরায়েলের আক্রমণের পরিকল্পনা প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক স্থানচ্যুতির ঝুঁকিতে ফেলবে। ট্রাম্প প্রশাসনও সংঘাত সমাপ্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন।

/এস/
সম্পর্কিত
ওয়াশিংটনে নিজের নামে প্রকল্প কেন, জানালেন ট্রাম্প
‘অবৈধ’ ঘোষণা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ
আরও বড় পদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
সর্বশেষ খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তারেক রহমান
ওয়াশিংটনে নিজের নামে প্রকল্প কেন, জানালেন ট্রাম্প
ওয়াশিংটনে নিজের নামে প্রকল্প কেন, জানালেন ট্রাম্প
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ
‘অবৈধ’ ঘোষণা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ
‘অবৈধ’ ঘোষণা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মসজিদ
সর্বাধিক পঠিত
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
দেড় ঘণ্টা পর শাহবাগ ছাড়লেন ‘ঢাকাস্থ নোয়াখালীবাসীরা’
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
বন্ধ হয়ে গেলো ১৮ বছর ধরে চলা দূরপাল্লার বাস সার্ভিস
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
নতুন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ
বৃন্দাবনের যে অংশে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষেধ
পরীমণির প্রথম সিনেমায় পারিশ্রমিক কত ছিল
পরীমণির প্রথম সিনেমায় পারিশ্রমিক কত ছিল