মার্কিন সরকারের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও প্রচারে পোকেমন কিংবা নিনটেনডোর জনপ্রিয় গেম ও অ্যানিমে চরিত্রের অননুমোদিত ব্যবহার নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাপান। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে এসব চরিত্র দিয়ে মিম বা ভিডিও তৈরি বন্ধের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
গেমিং ও পপ-কালচারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেক্সার্টোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে টোকিওতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা গত এপ্রিল, জুন এবং আগস্ট মাসে বারবার বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তাদের নজরে আনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানি সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাম্প প্রশাসনকে কোনও ধরনের অনুমতি ছাড়া এসব স্বত্বাধিকারী সম্পদ ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোকেমন, মারিও, নারুতো এবং ইউ-গি-ওহ এর মতো জনপ্রিয় চরিত্র ও ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপের প্রচারে পোকেমন থিমের একটি ভিডিও শেয়ার করেছিল। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের আরেকটি পোস্টে পো কোপিয়া-অনুপ্রাণিত গ্রাফিক্সের সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয় স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ব্যবহার করা হয়। এমনকি নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন সম্পর্কিত একটি পোস্টে সুপার মারিওর ফুটেজ ব্যবহার করে হোয়াইট হাউস।
অন্যান্য জনপ্রিয় অ্যানিমে নিয়েও একই ধরনের কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপ তুলে ধরতে তৈরি করা হোয়াইট হাউসের এক ভিডিওতে ফুটেজ দেখা যায় ‘ইউ-গি-ওহ’ অ্যানিমের। এমনকি ট্রাম্পকে ‘নারুতো’ চরিত্রে রূপ দেওয়া একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এসব জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের এই পোস্টগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
বিতর্কিত ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্য পোকেমন কোম্পানি সরাসরি জানায়, তারা এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তাদের কোনও স্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। একইভাবে ইউ-গি-ওহ-এর প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, এর অ্যানিমে টিম এই প্রচারণায় কোনও অনুমোদন দেয়নি।
জাপানি সংবাদপত্র মৈনিচি শিমবুন জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন প্রশাসনকে স্বত্বাধিকার লঙ্ঘন এবং সৃজনশীল কাজের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপে যায়নি জাপান, তবে বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্বেগ হিসেবে দেখছে দেশটি। তারা আশা করছে, নিজেদের প্রধান প্রধান গেম ও অ্যানিমে সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
সূত্র: এনডিটিভি

প্রায় ৯ ফুট লম্বা চুলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়লেন ভারতের রেণু
পাঁচ তারকা হোটেলে অভিযান, পাওয়া গেলো পচা মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ







