X
সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২
২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যত চ্যালেঞ্জ

তাসকিনা ইয়াসমিন
০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৯আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০২

 

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যত চ্যালেঞ্জ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে পুরুষের অনীহা, ব্যবহারের পর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বাধার কারণে এখনও দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া আইনি দুর্বলতা ও জনবল সংকটের কারণেও পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

এদিকে, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলছে পরিবার পরিকল্পনা সেবাসপ্তাহ। এবার এই সেবাসপ্তাহে প্রচারের বিষয়েই জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বর্তমানে দেশে নারীর জন্য খাবার বড়ি, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট (হরমোন সমৃদ্ধ অস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি), আইইউডি (জরায়ুতে স্থাপন উপযোগী অস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ) চালু রয়েছে। পুরুষের রয়েছেন জন্য কনডম ও এনএসভি (পুরুষ বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি)।  

পরিবার পরিকল্পনা সেবার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সুপারিটেন্ডেন্ট মো. নুর হোসেন বলেন, ‘জনবল সংকট, ধর্মীয় বাধা, মানুষের গোঁড়ামি মানুষকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি থেকে পিছিয়ে রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্ধতিগুলোর কিছু সাইড ইফেক্ট আছে, যা সবাইকে উৎসাহিত করে না। ইনজেকশন নিলে অনেক নারীর ওজন বেড়ে যায়। আইইউডি অনেকের শরীরে এডজাস্ট হয় না। অনেক দম্পতিকে মাঠকর্মীরা পদ্ধতির উপকরণ পৌঁছে দেন কিন্তু তারা ব্যবহার করতে চান না। পুরুষেরা এনএসভি নেওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়েন।’  

মো. নুর হোসেন আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনগুলোয় আমাদের চাহিদার তুলনায় জনবল কম। ১৯৭৬ সালে প্রথম আমাদের জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে একটি ইউনিয়নে ৬৫০ জন দম্পতির জন্য একজন ওয়েলফেয়ার এসিস্ট্যান্ট ছিলেন। কিন্তু এখন কোনও ক্ষেত্রে একজনের বিপরীতে ২০ হাজার দম্পতিও আছে। এটা খুবই বড় চ্যালেঞ্জ। আবার, শুরুতে চাকরিতে যোগ দেওয়া বেশিরভাগ কর্মী আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই দফতর থেকে অবসরে চলে যাবেন। এটা এই সেক্টরের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।’

জানতে চাইলে হাজারীবাগ নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা কো-অর্ডিনেটর ডা. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘অধিকাংশ পদ্ধতি মেয়েদের। এগুলোর সাইড ইফেক্টও আছে। আমরা সিজারের সময় টিউবেকটমিটা (বন্ধ্যাকরণ) করে দেই। নর্মাল সময়ে করলে পেসেন্ট  ব্যথা পায়। কিন্তু এনেসথেসিয়া দেওয়ার সিস্টেম না থাকায় তাকে সেটা দেওয়া যায় না। আমরা চাই নারীরা দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণ করবেন। দীর্ঘমেয়াদি আইইউডি পদ্ধতি গ্রহণে কোনও হরমোন সমস্যা নেই। পুরুষের জন্য এনএসভি পদ্ধতি গ্রহণ করলে ভালো। কিন্তু এটাও সবাই নিতে চান না। স্বল্প আয়ের মানুষ, ড্রাগ এডিকটেডরা এসব পদ্ধতি নিতে বেশি আসে। নানা অজুহাতে পুরুষরা  কনডম  নিতে চান না।’  তিনি বলেন, ‘এখন ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি করাতে ১৭৩ টাকা দিচ্ছে আর স্থায়ী পদ্ধতি নেওয়ার জন্য ২ হাজার ৩০০ টাকা শাড়ি/লুঙ্গি দেওয়া হচ্ছে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত, এই অর্থ থাকাটাই উচিত  না। আসলে সরকার টাকাটা দেওয়ার কারণ হলো, এই পদ্ধতি নেওয়ার পর সাতদিন কোনও কাজ করা যায় না। তাদের পুষ্টিকর খাদ্যের দরকার। কিন্তু দালালরা এই টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এটা করাতে চায়। আসলে এগুলো তো সচেতন হয়ে করার কথা।’

ধর্মীয় গোঁড়ামি বাধা হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে ডা. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘এখনও অনেকেই আছেন, যারা মনে করেন, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করা পাপ।’ তিনি  আরও বলেন, ‘স্বল্প আয়ের মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন, ছেলে সন্তান হলে তাকে খাওয়াবে। আবার মেয়ে সন্তান বংশ রক্ষা করতে পারবে না। তাই ছেলে সন্তান হওয়া পর্যন্ত তারা সন্তান নিতে থাকেন।’  

আজিমপুর নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাউন্সেলর হাবিবা সুলতানা বলেন, ‘যারা হাসপাতালে ডেলিভারি করাতে আসেন, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পদ্ধতি নেওয়ার জন্য বলি। কিন্তু যাদের বাড়িতে ডেলিভারি হয়, তাদের এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয় না।’ তিনি বলেন, ‘কিছু নারী নিজে পদ্ধতি নিতে চান না, স্বামীর ওপর দায়িত্ব দিয়ে রাখেন। যেসব নারী বাসাবাড়িতে কাজ করেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যাপারে তারা খুবই সচেতন। কিন্তু অনেক উচ্চশিক্ষিত নারীও দেখি অসচেতন।’   

/এমএনএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রাজশাহীতে পাটের দামে খুশি কৃষকরা
রাজশাহীতে পাটের দামে খুশি কৃষকরা
আমেরিকায় ৪ মুসলিম হত্যা: তীব্র নিন্দা বাইডেনের
আমেরিকায় ৪ মুসলিম হত্যা: তীব্র নিন্দা বাইডেনের
পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকালে আটক সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার
পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইকালে আটক সেই যুবলীগ নেতা বহিষ্কার
হত্যাকাণ্ডের ২ মাস পর ঢাবিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’
হত্যাকাণ্ডের ২ মাস পর ঢাবিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’
এ বিভাগের সর্বশেষ
হিরো আলমকে আটকের তথ্য ঠিক নয়: পুলিশ
হিরো আলমকে আটকের তথ্য ঠিক নয়: পুলিশ
জার্মান নাগরিক কাউসমান আত্মহত্যা করেছেন, ধারণা পুলিশের
জার্মান নাগরিক কাউসমান আত্মহত্যা করেছেন, ধারণা পুলিশের
সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় যাত্রীর মৃত্যু
সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় যাত্রীর মৃত্যু
মাতৃত্বকালীন বিষণ্নতায় ভোগেন দেশের ৩৯ শতাংশ নারী
মাতৃত্বকালীন বিষণ্নতায় ভোগেন দেশের ৩৯ শতাংশ নারী
উত্তরায় জার্মান নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার
উত্তরায় জার্মান নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার