চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে দাম, তবু মিলছে না মাস্ক

জাকিয়া আহমেদ
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৫৩আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩৬

 

চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে ফেস মাস্কের দাম

মগবাজার ডাক্তার গলির নোয়াখালী মেডিক্যাল স্টোরে সার্জিক্যাল মাস্ক নেই গত এক সপ্তাহ ধরে। রমনা ফার্মেসিতে নেই গত ৩-৪ দিন ধরে। রমনা ফার্মেসিতে কর্মরত সুজন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরেই মাস্কের সাপ্লাই নেই। শাহবাগের মেডিসিন প্লাস, অভিজাত ফার্মেসি, বেল-ভিউ ফার্মা, আবিদ ড্রাগস, জনসেবা ফার্মেসি, আল-কেমি ড্রাগস, নিউ পপুলার ফার্মেসি, ট্রিভোলি ফার্মাসহ পুরো মার্কেট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কোনও দোকানে ফেস মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতারা এসে ফেরত যাচ্ছেন। এসব ওষুধের দোকানগুলোর কোনওটিতে এক সপ্তাহ, কোনওটিতে গত ১০-১৫ দিন, কোনওটিতে আবার তিন-চার দিন ধরে ফেস মাস্ক নেই। আবার পান্হপথে লাজ ফার্মেসিতে সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া গেলেও তার দাম বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রথমদিকে অনেকে ৫০০ থেকে এক হাজার এমনকী দুই হাজার মাস্ক পর্যন্ত কিনে নিয়েছেন। আর যেসব কোম্পানি থেকে তারা এগুলো কিনতেন সেসব কোম্পানি থেকে এখন আর সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, ‘কোম্পানির লোক আসে না।’ তাদের দাবি, ‘এর আগে যেসব সার্জিক্যাল মাস্ক তারা বিক্রি করতেন, সেগুলো বেশিরভাগই ছিল চীনের আর ভারতের। কিন্তু সেগুলো এখন আর আসছে না।’ এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বলছে, একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় এই অসৎ পন্হা নিয়েছেন। তবে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানায় অধিদফতর।

চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে ফেস মাস্কের দাম

শাহবাগের ওষুধ মার্কেটের নিউ পপুলার ফার্মেসিতে মাস্ক কিনতে আসেন বেসকরারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ফজলুল করিম আশিক। কিন্তু সেখানে মাস্ক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৮-১০টি ফার্মেসি ঘুরেছি, কোথাও মাস্ক পাইনি।’ ফজলুল করিম বলেন, ‘এখন বোধ হয় এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ওষুধটিও পাওয়া যাবে, কিন্তু পাঁচ টাকার মাস্ক পাওয়া যাবে না।’ কিছুটা ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর সময়ে ৮০ টাকার অয়েন্টমেন্টের দাম বেড়ে হলো হাজার টাকা, সেটাও পাওয়া যায়নি। আর করোনা নিয়ে যতোই আতঙ্ক বাড়ছে ততোই বাজার থেকে উধাও হচ্ছে ফেস মাস্ক।’

বেল-ভিউ ফার্মার সত্ত্বাধিকারী রিপন সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশে ফেস মাস্কের চাহিদা বছর জুড়ে থাকে ১০ হাজারের মতো। কিন্তু এখন হঠাৎ করে সেই চাহিদা দুই থেকে তিন লাখে ঠেকেছে। ডিমান্ড বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার থেকে মাস্ক নাই হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহরে শুরুতে অনেকে এসে যত দামই হোক না কেন মাস্ক চেয়েছেন। অথচ আমরা দিতে পারিনি। আমারা তো প্রোডাক্টইতো পাচ্ছি না, দেব কোথা থেকে?’

ফেস মাস্ক কিনছেন এক ক্রেতা

রিপন সামাদ বলেন, ‘যারা এসব মাস্ক বিদেশ থেকে আনে, তাদের এলসি খোলা থেকে শুরু করে পোর্ট হয়ে আমাদের কাছে আসতে ৫০ থেকে ৬০ দিন চলে যায়। সে হিসেবে যদি কোম্পানিগুলো গত সপ্তাহেও অর্ডার দিয়ে থাকে তাহলে সেটা আসতে আসতেও মার্চের শেষ অথবা এপ্রিলের শুরুর দিকে হতে পারে।’

পান্হপথের লাজ ফার্মেসিতে সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া গেলেও তার দাম বেড়েছে। বিক্রেতা সুমন তিন ধরনের সার্জিক্যাল মাস্ক দেখান। বলেন, গত সপ্তাহ পর্যন্ত এগুলো ৪০ টাকা দামে বিক্রি হলেও এখন দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ টাকা। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে মাস্ক বিক্রেতা আবুল বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে মাস্ক বিক্রি করি। গত কয়েকদিনে হঠাৎ করেই বিক্রি বেড়ে গেছে।’ তিনি জানান, তার কাছে তিন রকমের মাস্ক রয়েছে। একটির দাম পাঁচ টাকা, একটির দাম ছিল ১০ টাকা আর আরেকটির দাম ছিল ২৫ টাকা। কিন্তু এখন ১০ টাকার মাস্ক হয়েছে ২০ টাকা আর ২৫ টাকার মাস্কটির দাম হয়েছে ৩৫ টাকা।

চাহিদার সঙ্গে বাড়ছে দাম, তবু মিলছে না মাস্ক

জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা কৃত্তিম সঙ্কট তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে-এটা আমরা বুঝতে পারছি। ব্যবসায়ীরা আসলে অধিক লাভ করার জন্য এই অসৎ পন্হা নিয়েছে। তারা শয়তানি করছে।’ কিন্তু গত ২৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এবং মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিমানবন্দরে চিঠিও দিয়েছিলাম কোম্পানিগুলো যেন মাস্ক দেশের বাইরে রফতানি না করতে পারে। কিন্তু তারা যে এভাবে মানুষকে জিম্মি করে মজুত করবে সেটা বোঝা যায়নি। আর এ অভিযোগও আমি আগে পাইনি। তবে আপনি যেহেতু বলছেন, আমরা নিশ্চয়ই কয়েকটি জায়গায় রেড দেব।’ তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠান মাস্ক তৈরি করে। তাদের পক্ষে রাতারাতি লাখ লাখ মাস্ক তৈরি করাও সম্ভব না।

দেশীয় যে দুটি কোম্পানি মাস্ক তৈরি করে তাদের একটি হচ্ছে আরএফএল গ্রুপের গেটওয়েল। গেটওয়েল এর জনসংযোগ বিভাগের এজিএম জিয়াউল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গেটওয়েল কোম্পানির মাস্কের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটিই অনেক কম। হুট করেই মাস্কের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু অ্যাজ পার ডিমান্ড আমরা সবটুকুই দিচ্ছি।’ মাস্কের প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আসলে যদি না বলা হয় তাহলে ভালো হয়। কিন্তু খুবই নতুন ভেঞ্চার এটা, সবেমাত্র শুরু করেছি, ক্যাপাসিটি সবই কম কম।

/জেএ/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের