যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মারা যান ১২৯ জন। বছরে এ সংখ্যা ৪৭ হাজার। আর তাই যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্টেক হোল্ডারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ওষুধের গুণগত মান ও সঠিক শনাক্তকরণ জরুরি।
বুধবার (৫ই ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৪২ জন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩৫০ জন শিশু।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিক্যাল অফিসার নাজিস আরেফিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের টিবি কন্ট্রোল কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ডা. মাহফুজা রিফাত। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শামীম আহমেদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজেস ও ওয়াশ কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, গাজী টিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাসহ আরও অনেকে।
অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, এটা সত্যি যে, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আশাব্যঞ্জক কাজ হয়েছে। তবে এই রোগ প্রতিরোধে আরও বেশি কাজ করতে হবে। অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, যক্ষ্মা চিকিৎসায় সফলতা আসলেও মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। তাই আমাদের এক্ষেত্রে যে সকল চ্যালেঞ্জ আছে, তা নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ওষুধের গুণগত মান ও সঠিক শনাক্তকরণ জরুরি।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, এক সময় এক বাড়িতে যক্ষ্মা হলে সবাই আতঙ্কিত হতাম। এখন আর সে অবস্থা নেই। তবে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আর সফলতা আনতে হলে আমাদের সামাজিক গবেষণায় আরও বেশি করে মনোযোগ দিতে হবে।








