হযরত (রা.) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া শিশুটি হাসপাতালে এখনও ভালো আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাঈদা আনোয়ার। শনিবার (৩ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘শিশুটি এখন পর্যন্ত ভালো আছে, সুস্থ আছে।’
সাঈদা আনোয়ার বলেন, ‘গতকাল রাতে ওকে আমরা ভর্তি নিয়েছি অবজারভেশনের জন্য। একটু ঠান্ডা দেখতে পাচ্ছি, আর সব ঠিক আছে। তবে একটু শঙ্কার বিষয় হলো, অনেকক্ষণ বাইরে ছিল, আমরা কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করবো। তবে এটুকু বলতে পারি, এখন পর্যন্ত আশঙ্কার কিছু নেই।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতরে কাঁদছিলো এই শিশু। তখন তার আশেপাশে কেউ ছিল না। পরে দুগ্ধপোষ্য এই শিশুটিকে উদ্ধার করে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করাসহ অনুসন্ধান করে পুলিশ জানতে পারে, সৌদি আরব থেকে এক নারী যাত্রী শিশুটিকে বিমানবন্দরে ফেলে গেছেন। এরপর শিশুটিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তার পরিবারের অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় (২ এপ্রিল) সৌদি আরব থেকে এক নারী বাংলাদেশে আসেন। ৫ নম্বর বেল্ট থেকে মালামাল সংগ্রহ করেন তিনি। তার সঙ্গে একটি শিশু ছিল। তিনি সকাল পর্যন্ত বেল্ট এরিয়ায় থাকেন। সকাল ৮টার দিকে সেই নারী বাচ্চাটিকে বিমানবন্দরে রেখে চলে যান। পরবর্তীতে এই শিশুটি কান্না করছিল, আমরা তাকে উদ্ধার করি। তাকে দুধ পান করানো ব্যবস্থা করা হয়। শিশুটির বয়স আনুমানিক ৭-৮ মাস হবে। বিমানবন্দরে আসমা আক্তার নামে একজন যাত্রীকে পাওয়া যায়, যিনি শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে আসা নারীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আসমা আমাদের জানিয়েছেন, ওই নারীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তখন সেই নারী আসমাকে জানিয়েছিল যে, সৌদিতে তার বিয়ে হয়। শিশুটির জন্মের পর স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ কারণে তিনি দোটানায় আছেন যে, শিশুটিকে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে যাবে কিনা।
আরও পড়ুন...
বিমানবন্দরে শিশু ফেলে গেলেন সৌদি প্রবাসী নারী
ফেলে যাওয়া শিশুটি পুলিশ হেফাজতে, দত্তক নিতে চান অনেকেই









