বাংলাদেশের প্রবীণদের (ষাটোর্ধ্ব) প্রতি ৫ জনের ৪ জনই উচ্চ-রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) এবং বিষণ্ণতার মতো অসংক্রামক রোগে ভুগছেন বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। শুক্রবার ( ১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২১’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনলাইন ওয়েবিনারে প্রবীণদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফলে এ চিত্র উঠে আসে।
‘লিডিং ইউথ টু দ্যা ওয়াইজ ফর ডিজিটাল ইকুইটি অ্যান্ড কেয়ার’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারের মূল আয়োজক ছিল ‘দ্য গ্লোবাল হেলথ নেটওয়ার্ক এশিয়া’ এবং ‘ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্লাটফর্ম বাংলাদেশ’।
ওয়েবিনারে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানী ও ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস এর প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ।
দেশজুড়ে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের প্রতি ২ জনের একজন একাধিক অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত। এছাড়া প্রবীণ পুরুষদের তুলনায় (৩৭ শতাংশ) প্রবীণ নারীদের (৫৪ শতাংশ) অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার অনেক বেশি।
ওয়েবিনারে গবেষক ও জনস্বাস্থ্যবিদরা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সেবাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা জোরদার করার সুপারিশ করেছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিগত ছয়মাসে প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রতি তিনজনের একজন ( ৩৫ শতাংশ) কাছের ওষুধের দোকানের বিক্রেতার কাছে গেছেন চিকিৎসা সেবার জন্য। ৩৬ শতাংশ গিয়েছেন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আর ১৭ শতাংশ সেবা নিয়েছেন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে।
প্রবীণদের সর্বশেষ ছয়মাসের স্বাস্থ্যসেবার গড় খরচ ছিল ২ হাজার ৪২৯ টাকা। এই প্রবীণদের ৩০ শতাংশ এখনও নিজেরা আয় করেন যা থেকে তারা চিকিৎসার খরচ চালান। যারা নিজেরা আয় করেন না তাদের মধ্যে প্রতি ৫ জনের ৪ জন চিকিৎসা খরচের জন্য সন্তানদের আয় কিংবা নিজস্ব সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ শতাংশ সরকারি সামাজিক সুরক্ষার ভাতা (বয়স্ক/বিধবা) পেয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন।
গবেষণা প্রসঙ্গে গবেষণা দলের প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, আমরা দেশব্যাপী দুই হাজার সাতশো পঁচানব্বই জন প্রবীণ ব্যক্তির কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের একটা চিত্র পাই যা বেশ উদ্বেগজনক।
ওয়েবিনারে একটি ভিডিও বার্তায় আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ প্রবীণদের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ’অসংক্রামক রোগ, এবং যেসব রোগ প্রবীণদের মাঝে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে সেসব মোকাবেলা করার জন্য আমাদের আরও গবেষণা, এবং সহযোগিতামূলক কাজ করতে হবে।’









