X
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২
১৫ আষাঢ় ১৪২৯

সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে যেতে হবে ইমার্জেন্সি স্ট্রোক সেন্টারে

আপডেট : ১২ মে ২০২২, ০৯:০০

ঈদের দুই দিন আগে স্ট্রোকের শিকার হন ৬৫ বছর বয়সী জামান আহমেদ। পরিবার আঁচ করতে না পারায় দুই দিন পর তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার আরও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সর্বশেষ তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে গত ২১ এপ্রিল কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ দলীয় সমাবেশে কিছুটা অসুস্থতা অনুভব করলে তাকে নিয়ে আধা ঘণ্টার মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইমার্জেন্সি স্ট্রোক সেন্টারে। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন মাইনর স্ট্রোকে আক্রান্ত সমীর চন্দ। যার কারণে তিনি পঙ্গু হওয়া থেকে বেঁচে যান।

ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, স্ট্রোক হওয়ার তিন থেকে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা নিলে ৩০ শতাংশ রোগীর সম্পূর্ণ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্ট্রোক হওয়ার ছয় ঘণ্টার ভেতরে রক্ত নালীর জমাট খুলে দিলে ৫০ শতাংশ রোগীর সম্পূর্ণ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, স্ট্রোক হওয়ার পরে রিং পরানোর মাধ্যমে রক্ত নালীর ব্লক খুলে দেওয়া সম্ভব এবং স্ট্রোক হওয়া রোগীদের স্ট্রোক সেন্টারে চিকিৎসা নিলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ।

বিদেশে স্ট্রোক সেন্টারে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই চালু থাকলেও বাংলাদেশে এটি নতুন ধারণা। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল এবং বিএসএমএমইউতে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও এই চিকিৎসা চালু হয়েছে। 

স্ট্রোক কী

অনেকে স্ট্রোককে হৃদরোগ মনে করলেও স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কের রোগ। এটি মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়। সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে মানুষের মস্তিষ্কের কোষেও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

স্ট্রোকের কারণ

বিভিন্ন কারণে স্ট্রোকের শিকার হলেও এর মূল কারণ উচ্চ রক্তচাপ। চিকিৎসকদের মতে, শুধু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে ৫০ শতাংশ স্ট্রোক কমানো সম্ভব। এছাড়া স্ট্রোকের অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে- ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও হতাশা, অতিরিক্ত পরিশ্রম করা অথবা কায়িক পরিশ্রম না করা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকাসক্তি, হার্টের কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া ও হার্টের সমস্যা।

স্ট্রোক বুঝবেন কীভাবে

চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে আচমকা হাত-পা বা শরীরের কোনও অঙ্গ অবশ হয়ে আসে, দৃষ্টি ঝাপ্সা হয়ে আসে, কথা বলতে অসুবিধা হয়, চোখে অন্ধকার দেখা, কাজ করতে করতে হা-পা বা শরীরের কোনও একদিক হঠাৎ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়া, মুখ থেকে লালা ঝরা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও খিঁচুনি হওয়া এবং ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা।

ইমার্জেন্সি স্ট্রোক সেন্টারে কেন যাবেন

স্ট্রোক সেন্টারে চিকিৎসার সুযোগ হলে স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির সুস্থ হয়ে উঠার এবং পঙ্গুত্ব বরণ না করার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের মতে, একিউট স্ট্রোক ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশে নতুন শুরু হয়েছে। যদিও এটি বেশ আগে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়। একজন রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে স্ট্রোক সেন্টারে এলে চিকিৎসকরা তার সিটিস্ক্যান করার পর ওষুধ দেন। সেটি একটি ইনজেকশন, যার একটি ভায়েলের বাজারমূল্য ৫০ হাজার টাকা। এ ওষুধ দেওয়ার ফলে স্ট্রোকের জন্য যে পঙ্গুত্ব হয়ে যায়, একদিক দুর্বল হয়ে যায়, সেসব ঠিক হয়ে যায়। ফলে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।

বিএসএমএমইউ’র নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই চিকিৎসা দিতে হবে সাড়ে চার ঘণ্টার ভেতরে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রোগীরা সাড়ে চার ঘণ্টার ভেতরে আসেন না। কারণ রোগীরা জানেন না স্ট্রোক হয়েছে। সচেতনতার জন্য আমাদের প্রথম দায়িত্ব রোগীদের জানানো। আবার অনেকেও জানে যে এটা স্ট্রোক, কিন্তু তারা জানেন না যে চিকিৎসা করার সময় হচ্ছে সাড়ে চার ঘণ্টা। এই সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা করা না হলে প্রতি মিনিটে প্রায় ২০ লাখ কোষ মারা যায়। অর্থাৎ সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে যদি চিকিৎসা করা যায় তাহলে ২০ লাখ কোষ বেঁচে যায়।

তিনি আরও বলেন, স্ট্রোক সেন্টারের কাজ হচ্ছে রোগী আসার পর যত দ্রুত এই ইনজেকশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আবার সব হাসপাতালে এই সুযোগ নেই। সুতরাং রোগীকে এমন হাসপাতালে যেতে হবে যেখানে এই চিকিৎসা আছে। রোগীরা ভুলবশত চলে যান হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় এটি হার্টের রোগ না। ততক্ষণে কিন্তু অনেক সময় পার হয়ে যায়। আমাদের যদি সচেতনতা তৈরি করতে হয়, তাহলে রোগীদের জানাতে হবে যে- স্ট্রোক ব্রেনের রোগ, এর চিকিৎসা আছে। চিকিৎসা করলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ডা. শহীদুল্লাহ জানান, আমরা যখন দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসি তখন দেখি দেশে ওষুধই নেই। আমাদের দেশে এই ওষুধ নিয়ে আসার অনুমতি পাওয়া গেল ২০১৮ সালে। এখন যখন ওষুধ আসছে, হাসপাতাল রেডি, জনবল আছে কিন্তু রোগী আসছে না। কারণ রোগীদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে না। এই ওষুধের দাম অনেক, তবে সরকারিভাবে চেষ্টা করা হলে হয়তো এটি মানুষের জন্য সহজলভ্য হবে। কারণ ভারতেও দেখেছি যে এই ওষুধ সরকার হাসপাতালে সরবরাহ করে।

/এমএস/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
ডেমরায় বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলছে স্বাভাবিকভাবে
নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
নির্মল রঞ্জন গুহের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরির সুযোগ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চাকরির সুযোগ
এ বিভাগের সর্বশেষ
মিটফোর্ড হাসপাতালের সেই দগ্ধ চিকিৎসক মারা গেছেন 
মিটফোর্ড হাসপাতালের সেই দগ্ধ চিকিৎসক মারা গেছেন 
শিশুদের টিকার জন্য নিবন্ধনের আহ্বান
শিশুদের টিকার জন্য নিবন্ধনের আহ্বান
২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮৭
২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮৭
শিশুদের দেওয়া হবে ফাইজারের টিকা
শিশুদের দেওয়া হবে ফাইজারের টিকা
৯ জনের চার জনই নিয়েছিলেন বুস্টার ডোজ
৯ জনের চার জনই নিয়েছিলেন বুস্টার ডোজ