স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে। আর এই অসংক্রামক রোগের অন্যতম একটি বাহক হলো তামাকের ব্যবহার। তাই তামাক নিয়ে যারা কাজ করবে আমরা তাদের সঙ্গে কোনও রকম সম্পর্ক রাখবো না।
রবিবার (১১ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল (এনটিসিসি) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর তামাকের কারণে দেড় লাখ মানুষ মারা যায়। তামাক থেকে যে রেভেনিউ সরকার পায় তার থেকে বেশি ক্ষতি চিকিৎসা ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতেই হয়ে যায়। এজন্য যেকোনও মূল্যে আগামী ২০৪০ সালের মধ্যেই দেশ থেকে তামাক পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে।’
সভায় বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর ৯টি ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ১০ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়, ‘জেলা টাস্কফোর্স কমিটি’ ক্যাটাগরিতে খুলনা টাস্কফোর্স কমিটি, ‘উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি’ ক্যাটাগরিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি, ‘শ্রেষ্ঠ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তা’ ক্যাটাগরিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল ইসলাম, ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম ও মো. আল আমিন রহমান, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে ঝিনাইদহ পৌরসভা, ‘বেসরকারি সংস্থা’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং, ‘সাংবাদিক (প্রিন্ট মিডিয়া)’ ক্যাটাগরিতে এহসানুল হক জসীম এবং ‘সাংবাদিক (ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া)’ ক্যাটাগরিতে সুশান্ত সিনহা তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সম্মাননা অর্জন করেন।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য) মো. সাইদুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনটিসিসির সমন্বয়কারী ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হোসেন আলী খোন্দকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধি সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হুমায়ুন কবীর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বার্দান জং রানা প্রমুখ।









