রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের সব জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন এলাকায় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান পাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার (২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীকে এই টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। বিনামূল্যে সরকার এই টিকা দেবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ঢাকা বিভাগে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে দেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে কিশোরীদের তথ্য নেওয়া হয়।
প্রথম পর্যায়ে ঢাকা বিভাগের জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় অবস্থিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কিশোরী শিক্ষার্থীদের স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিদ্যমান ইপিআই’র স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এক ডোজ করে মোট ২৩ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
টিকা গ্রহণের আগে অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য vaxepi.gov.bd নামে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। জন্মনিবন্ধন এবং মোবাইল ফোন নম্বরের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধনের পর টিকাকেন্দ্র নির্বাচন করে টিকা কার্ড ডাউনলোডের পর সেটি নিয়ে কেন্দ্রে যেতে হবে।
ইপিআই’র দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে নারীদের ক্যানসার জনিত মৃত্যুর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানাসর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এইচপিভি টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্রী অথবা ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানবহির্ভূত কিশোরীদের জন্য এই টিকা অধিকতর কার্যকর। জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার একটি ডোজই যথেষ্ট। এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, নিরাপদ ও কার্যকর।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, নারীদের ক্যানসার জনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। জরায়ু ক্যানসার বিশ্বে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নারী মারা যান। এরমধ্যে ৯০ ভাগই ঘটে উন্নয়নশীল দেশে। বাংলাদেশে প্রতি লাখ নারীর মধ্যে ১৬ জন জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং বছরে মারা যান ছয় হাজার ৫৮২ জন। জরায়ুমুখ ক্যানসার শেষ পর্যায়ে শনাক্ত হয় বলে মৃত্যুসংখ্যা বেশি হয়। তবে টিকা দিলে এই ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এ জন্য আমরা দেশের ১০-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এই টিকা দেওয়া শুরু করবো।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের হাতে সাড়ে ২৩ লাখ ভ্যাক্সিন আছে। এগুলো স্কুল পর্যায়ে থেকে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকায়, দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়া হবে চট্টগ্রাম ও বরিশালে। এরপর সারা দেশে দেওয়া হবে। আগামী নভেম্বর মাসে আরও ২০ লাখ ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। ২০২৪ সালে পাওয়া যাবে আরও ৪২ লাখ ভ্যাকসিন।









