বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গত এক বছরে ৪১ হাজার ৫৯৬ জন রোগী সেবা নিয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) হাসপাতালটির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। এদিন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্তকরণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শোভাযাত্রাটি সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যান্সার ভবন প্রদক্ষিণ করে সি ব্লক প্রদক্ষিণ করে কেবিন ব্লক হয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের দক্ষিণ ফটকে গিয়ে শেষ হয়। একই সঙ্গে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চারটি আইটি সম্পর্কিত সেবার শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওয়েবসাইট, অনলাইন প্যাশেন্ট এপোয়েন্টমেন্ট সিস্টেম, ইস্যু ট্রাকার সিস্টেম ও স্মার্ট কার পার্কিং সিস্টেম কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়।
এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ ছিলেন। তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আইসিইউ, আন্তঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়াতে চাই এবং পহেলা জানুয়ারিতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক্সিকিউটিভ চেকআপ রুম চালু করতে চাই।
উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন দেখেছেন, কোনও রোগী যেন চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে না যায়, সেই স্বপ্ন পূরণে দেশের মধ্যেই সব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমাদের দেশেই স্বল্প খরচে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আমরা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি পেয়েছি। গত ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। লক্ষাধিক ইনভেস্টিগেশন করেছি। ৫০ হাজারের মতো রোগী আমাদের এখানে এসেছে। এক হাজারের মতো রোগী এখানে ভর্তি হয়েছে। আমরা এখানে অনেক অপারেশন করেছি, যা মানসম্পন্ন। এছাড়া এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, জোড়া শিশু আলাদা, জয়েন্ট অ্যান্ড হিপ রিপ্লেসমেন্ট করাসহ আমরা এখানে অনেক কাজ করেছি।
উপাচার্য বলেন, আমরা অনেক সেবা দিয়েছি, যে সেবাগুলোর জন্য আমাদের দেশের রোগীরা বাইরের দেশে চিকিৎসা নিতে যায়। বন্ধ্যত্বের জন্য রোগীরা বাইরে যায়। আমরা এই সেবাটার জন্যও কাজ করতে চাইছি। আমরা এখানে থেরাপির মাধ্যমে টেস্টটিউব বেবি করেছি। আমরা জোড়া শিশু সেপারেট করছি। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টও এখানেই করবে। যার খরচ আমাদের দেশে ৩ লাখ, বাইরের দেশে ৪০ লাখ। লিভার ট্রান্সপ্লান্টও আমরা এখানে করবো, যার খরচ আমাদের এখানে ২০ লাখ টাকা আর বাইরের দেশে এক কোটি টাকা। উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের এখানের কার্যক্রম আরও গতি পাবে যদি আমরা প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে পারি এবং আমাদের যে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন সেটা সম্পূর্ণ করতে পারি। আর কোরিয়া থেকে যেসব যন্ত্রপাতি আসার কথা সেগুলো আশা করি খুব শিগগিরই পেয়ে যাবো। তারপর আমরা শতভাগ চিকিৎসা সেবা চালু করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রসুল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল হারুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বনিক, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহ নিজাম উদ্দিন শাওন।
বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫টি সেন্টারের অধীনে ২০টি বিভাগে গত এক বছরে সর্বমোট ৪১ হাজার ৫৯৬ জন রোগী সেবা নিয়েছেন। ল্যাবরেটরি সার্ভিসেসের আওতায় গত ২৩ জানুয়ারি গতকাল পর্যন্ত ৫টি বিভাগ (বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি, ভাইরোলজি, হেমাটোলজি, ল্যাবরেটরি মেডিসিন) মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৯১ হাজার ৯৫২টি। ২৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬টি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছে।









