হামে ভয়াবহতম প্রাদুর্ভাবের মুখে দেশ

আসাদ আবেদীন জয়
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০১আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০১

একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গ্যাভি সমর্থিত আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীও বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে।

মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে, আক্রান্ত দেড় লাখের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২ জনকে হাম সন্দেহে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে ২০ হাজার ৯৫১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকিদের হাম নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রাদুর্ভাব শুরুর ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এ সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যু সরাসরি হামেই হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৯৮০ জনের মৃত্যু হাম সন্দেহে হয়েছে। অর্থাৎ তাদের হামের উপসর্গ ছিল, কিন্তু শনাক্ত করা যায়নি।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হিসাবে দেশে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃত্যু ১ হাজার ৮১ জন।

বিভাগভিত্তিক চিত্রে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা বিভাগে, ৫০৬ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের।

বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশে

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হামের সংক্রমণ ঘটেছে বাংলাদেশে। এ সময়ে দেশে ৬২ হাজার ৩৫১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ওয়ার্ড (সাম্প্রতিক ছবি)

বিশ্বের হামের প্রাদুর্ভাবের তালিকায় বাংলাদেশের পরই রয়েছে গুয়েতামালা। এরপর যথাক্রমে ভারত, ইয়েমেন, পাকিস্তান, মেক্সিকো, ক্যামেরুন, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাজাখস্তান ও এঙ্গোলা। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি এই তথ্য নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে।

কেন এই ভয়াবহ অবস্থা?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকা সরবরাহে ঘাটতি এবং কর্মসূচির দুর্বলতার কারণে এখন ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়মিত টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনে এবং ৫০ শতাংশ টিকা উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে টিকা সংগ্রহে ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্ব হয়।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭ কোটি ডোজ টিকা লাগলেও ২০২৫ সালে ইউনিসেফের মাধ্যমে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ ডোজ সংগ্রহ সম্ভব হয়। এর ফলে হার্ড ইমিউনিটি ৯৫ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

প্রাদুর্ভাবের শুরুতে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। গ্যাভির তথ্য বলছে, মৃত্যুর ৯৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী, যার মধ্যে ৫৬ শতাংশ নয় মাসের কম বয়সী।

টিকা ক্যাম্পেইন করেও হার্ড ইমিউনিটি আসেনি

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের আওতায় ঘাটতি এবং বিশেষ করে ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে যথাযথ জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার গত ৫ এপ্রিল জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করে। ২০ মে পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশু টিকা পায়, যা ১ কোটি ৮০ লাখের লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়।

জুন ও জুলাইয়ে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই হ্রাস প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

পরে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সসীমার ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে সেবা দেওয়া হয়, যা হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযানের তুলনায় ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার বেশি। এতে সরকার স্বীকার করে যে তাদের লক্ষ্যমাত্রা কম নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এরপর জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি ‘মপ-আপ’ অভিযান চালানো হয়। তবু সেই উদ্যোগ যথেষ্ট হয়নি। আগস্টে আবারও হামে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম রোগীর স্বজনদের ভিড় (সাম্প্রতিক ছবি)

এ প্রেক্ষাপটে গত ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুই থেকে তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। সম্ভাব্য টিকার সংকট এড়াতে ইউনিসেফের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সের বাইরের শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই তাদেরও টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, ‘১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা গেলে আরও ভালো হবে। পাশাপাশি অভিভাবকেরা যেন শিশুদের টিকা নিতে নিয়ে আসেন, সে জন্য সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুর জন্য আবার টিকা ক্যাম্পেইন

হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে বাদ পড়া ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু করছে সরকার। ‘ইনটেনসিফায়েড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ শীর্ষক এ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, ‘চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা না পাওয়া বা বাদ পড়া ৩৪ লাখ শিশুদের বাড়ি বাড়ি খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে নতুন ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো টিকা গ্রহণের উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার শিশু টিকা পেয়েছে।

আইসিইউ বাড়িয়ে নয়, প্রাইমারি কেয়ার শক্তিশালী করেই মৃত্যু কমাতে হবে

এ বছর সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনাটা কি আসলে কাঙ্ক্ষিত ছিল, কেন এমন হলো, এত মৃত্যু কেন ঘটলো, কোথায় ভুল ছিল বা আমরা কোন ভুল পথে ছিলাম জানতে চাইলে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হাম নিয়ে সারা বিশ্বের অনেক দেশেই মহামারি হয়েছে। কোভিডের সময় থেকে টিকাদান নিয়ে একটা বিপর্যয় হয়েছে। বাংলাদেশেরও পলিসিগত সমস্যা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কিন্তু হামে মৃত্যুর হার আমাদের দেশের মতো এত বেশি, এটা একটা বিষয়। মোট মৃত্যুর সংখ্যা এক জিনিস, আর রোগীর অনুপাতে মৃত্যুর হার, যেটাকে আমরা বলি কেস ফ্যাটালিটি রেট, সেটা আরেকটা বিষয়। আমাদের দেশে এই হার সর্বোচ্চ।”

মুশতাক হোসেন বলেন, ব্রাজিলের মতো জনবহুল দেশ বা এশিয়ার অন্যান্য দেশেও হাম হয়েছে। আমেরিকা-ইউরোপের কথা বাদ দিলাম, আমেরিকায় মাত্র দুই জন মারা গেছে। সেখানে হাম হলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে।

‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্যব্যবস্থাটা একেবারেই কেন্দ্রীভূত। একেবারে শেষ মুহূর্তে বড় বড় হাসপাতালের দিকে পাবলিকেরও নজর, সরকারেরও নজর। মনে করা হয়, আইসিইউ বানালেই বা অক্সিজেনের ব্যবস্থা করলেই মৃত্যু কমে যাবে। কিন্তু যাতে মৃত্যুর মতো অবস্থায় না আসে, সে বিষয়ে আমাদের খুব একটা মনোযোগ নেই প্রাইমারি হেলথকেয়ারে এবং সেকেন্ডারি হেলথকেয়ারে। ফলে আমাদের ডাক্তাররা এ বিষয়ে প্রথম দিকে একটু হোঁচট খেলেও পরে তারা সামলে নিয়েছেন’, যোগ করেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউটে শিশু ও স্বজনদের ভিড়। সাম্প্রতিক ছবি

তিনি আরও বলেন, ‘আইসিইউ বেড যদি ১০টা থাকে, ডাক্তার যদি আপনি ১০০ জনও রাখেন, তাহলে তো আইসিইউ চালানোর মতো অভিজ্ঞ ডাক্তার রাতারাতি তৈরি করতে পারবেন না। টাকা দিয়ে আপনি আইসিইউ কিনতে পারবেন। এই যে হাসপাতাল কেন্দ্রিক এবং যন্ত্রকেন্দ্রিক পলিসি, এখান থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এ ধরনের পাবলিক হেলথ প্রবলেম আপনি সামাল দিতে পারবেন না।’

প্রাইমারি কেয়ার এবং সেকেন্ডারি কেয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রাইমারি কেয়ার লেভেলে যদি এসব ভালনারেবল শিশু, অর্থাৎ অপুষ্ট শিশুদের জন্য কমিউনিটি আইসোলেশন সেন্টার বা এ ধরনের স্থাপনা তৈরি করা যায়, বিশেষ করে শহরে, তাহলে তাদের দেখভাল করা সম্ভব। গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হাসপাতাল আছে।

‘তাদের হাসপাতালে রেখে দিলে হয়তো হামের কোনও ডেঞ্জার সাইন তাদের হয়নি। কিন্তু অপুষ্ট শিশুরা হাসপাতালে থাকলে ভিটামিন এ খাওয়ানো, স্পেশাল ডায়েট দেওয়া, সেই ডায়েট অবশ্য সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে দিতে হবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লিমিটেশন আছে। বা স্থানীয় যারা জনপ্রতিনিধি, তারা ভলান্টিয়ারি এটা করতে পারে। এই ভালনারেবল শিশুদের যদি আমরা প্রাইমারি কেয়ার এবং সেকেন্ডারি কেয়ারে রাখতে পারতাম, তাহলে ৯০ শতাংশ শিশু যারা আইসিইউতে এসে সিট পাচ্ছে না বা সিট পেয়েও টিকছে না, এরা বেঁচে যেতো।’

তিনি বলেন, ‘এই যে আমাদের নিচের দিকে আমরা তাকাচ্ছি না। মানুষ ডিমান্ড করে যে আইসিইউ নাই। আইসিইউ যদি আপনি গ্রামে গ্রামেও তৈরি করে দেন, তারপরেও যদি রোগীর সংখ্যা কমাতে না পারেন, ভালনারেবল রোগীর সংখ্যা যদি আপনি টেক কেয়ার না করেন বিফোর হ্যান্ড, তাহলে ঘরে ঘরে আইসিইউ দিয়ে মৃত্যু কমাতে পারবেন না।’

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষ হাসপাতালে প্রাইমারি লেভেলে যেতে চায় না, বিশেষ করে হামের মতো রোগ হলে। কারণ আল্টিমেটলি হাসপাতাল ভর্তি করবে না। হাসপাতাল বলবে যে, আপনার অবস্থা এমন হয়নি যে আপনি এখনই মরবেন। আর মৃত্যুর মতো অবস্থা হয়ে আসেন, তখন ভর্তি করবেন।

‘বিশেষ করে গ্রামে, উপজেলায় বলে যে আমাদের এখানে আইসিইউ নাই, সোজা ঢাকায় চলে যান। এই তো হলো অবস্থা। কাজেই ঢাকায় যেকোনও জায়গায় যে রোগ হোক, সোজা যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ফলে এখানে কিন্তু নলেজ-রিসোর্স আছে, কিন্তু স্তরভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নাই। সব একেবারে বড় বড় হাসপাতালে সেন্ট্রালাইজড। এটাকে ঠিক না করলে মৃত্যু কমাতে পারবেন না।’

৯৫ শতাংশ শিশুর টিকা দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি করতে হবে

সরকার বলেছিল হার্ড ইমিউনিটি বাড়ালে এটা ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা কেন হলো না জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ঠিক আছে, হার্ড ইমিউনিটি তো হয়নি। টিকা তো ঠিকমতো দেওয়া যায়নি। সেটা স্বীকার করতে কমিউনিটির দেরি হয়েছে, যেই বলে থাকুক, কথাটা ঠিকই। হার্ড ইমিউনিটি তো ৯৫ শতাংশ বাচ্চাদের টিকা দিয়ে করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার একটা ভুল ক্যালকুলেশন দিয়ে শুরু করেছে। ঠিক আছে, ইমার্জেন্সি টাইমে হতে পারে। কিন্তু তারা এই সময় আবার যেভাবে আমাদের ইপিআই টিকা দেয়, মাইক্রো প্ল্যানিং করে, সেটা করে এই ভুলটা সংশোধন করা যেতো। কাজ করতে করতে এই ভুলটা সংশোধন করা যেত। এখন তারা বলছে ২৫ তারিখ থেকে টিকা দেবে। টিকা আসছে কিনা জানি না। এই টিকা যদি আপনি না দেন, তাহলে আবার যে মৃত্যুর ঢেউ শুরু হয়েছে, আমি বলি, মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে, সেটাও তো থামানো যাবে না।’

/এসও/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৮৩
একদিনে হামের উপসর্গে ঝরলো ১১ প্রাণ
৮ হাজারের বেশি রোগী: হাম পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই চট্টগ্রামের কোনও হাসপাতালে
সর্বশেষ খবর
আর নোটিশ নয়, এবার হঠাৎই উচ্ছেদ অভিযানে নামবে ডিএনসিসি
আর নোটিশ নয়, এবার হঠাৎই উচ্ছেদ অভিযানে নামবে ডিএনসিসি
বাসার দরজা ভেঙে এনসিপি নেতার মরদেহ উদ্ধার
বাসার দরজা ভেঙে এনসিপি নেতার মরদেহ উদ্ধার
হোয়াইট হাউস ছাড়লেন শি, বৈঠককে ‘দুর্দান্ত’ বললেন ট্রাম্প
হোয়াইট হাউস ছাড়লেন শি, বৈঠককে ‘দুর্দান্ত’ বললেন ট্রাম্প
জন্মের ৫ দিন পর মাতৃহারা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারালো আরফা
জন্মের ৫ দিন পর মাতৃহারা, এবার ডেঙ্গুতে বাবাকেও হারালো আরফা
সর্বাধিক পঠিত
ইলিশের দাম কেজিতে কমেছে ৩০০ টাকা, বাজারে বেড়েছে সরবরাহ
ইলিশের দাম কেজিতে কমেছে ৩০০ টাকা, বাজারে বেড়েছে সরবরাহ
চাকরি পাওয়ার খুশিতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জড়ালেন হত্যা মামলায়
চাকরি পাওয়ার খুশিতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে জড়ালেন হত্যা মামলায়
আগাম কর দিয়েও ৫ শতাংশ ছাড় থেকে বঞ্চিত করদাতারা
আগাম কর দিয়েও ৫ শতাংশ ছাড় থেকে বঞ্চিত করদাতারা
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কখন কমবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের দাম কখন কমবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ হারালেন ৯ জন 
স্লিপার বাসে ‘পোড়া গন্ধ’ পেয়েও থামাননি চালক, আগুনে প্রাণ হারালেন ৯ জন