শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৪ চীনা নাগরিক আইসোলেশনে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:৪৩আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:৫৭

চীন থেকে আসা একটি ফ্লাইটের  ৪ জন যাত্রীকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে চীন থেকে একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তারা। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিংয়ের সময় ৪ যাত্রীকে করোনা লক্ষণযুক্ত মনে হওয়ায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। সেখানে তাদের পজিটিভ রিপোর্ট এলে মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠায় বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগ।

নতুন করে বেশ কয়েকটি দেশে কোভিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের সব বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে স্ক্রিনিং বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয় গত ২৫ ডিসেম্বর। সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার নতুন যে ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে বিএফ৭, সেটি বিএ৫-এর একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট। অন্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে এটার সংক্রমণ ক্ষমতা চারগুণ বেশি। এটির আরেকটি ভয়ানক দিক হচ্ছে খুব কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘৪ জন যাত্রীর মুখমণ্ডল লাল ছিল। পরে তাদের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হলে সেখানে পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ কারণে এই চার চীনা নাগরিককে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।’

ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘তারা চীন থেকে আরটিপিসিআর টেস্ট করে নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়েই এসেছিলেন। তারপরও তাদের লক্ষণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। আইডিসিআরকে তাদের তথ্য জানানো হয়েছে। পুনরায় তাদের আরটিপিসিআর টেস্ট করানো হলে প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে।’

বিমানবন্দরে গত এক বছর ধরে অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তবে এ সময়ে পজিটিভ কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘কোনও যাত্রীকে দেখে লক্ষণযুক্ত মনে হলেই অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন জানান, তাদের নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের জন্য ২০২০ সাল থেকে আরটিপিসিআর টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। খুব তাড়াতাড়ি নমুনা সংগ্রহ করে রেজাল্ট পাওয়া যায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে বড় ধরনের প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি দরকার হয় না। তবে অ্যান্টিজেন পদ্ধতি শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। নানা কারণে অ্যান্টিজেন টেস্টের ফলাফল ‘ফলস নেগেটিভ' কিংবা 'ফলস পজেটিভ' হতে পার। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা যাবে, তাদের অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হবে। এতে যারা পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হবে।

 

/সিএ/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘পায়ের ছাপ’
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
বাবা-মেয়েসহ ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের