অনেকেরই ক্যারিয়ার শুরু হয় তিন বা ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ দিয়ে। এই সময়টাকে কেবল সার্টিফিকেট পাওয়ার মাধ্যম না ভেবে স্থায়ী চাকরির টিকিট বানানোর পাঁচটি কার্যকারী কৌশল নিচে দেওয়া হলো।
১. ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ বা স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
শুধু অর্পিত দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। নিজের কাজ শেষ হলে সিনিয়রদের জিজ্ঞেস করুন, ‘আপনাকে কি কোনও কাজে সাহায্য করতে পারি?’ এই উদ্যোগী মনোভাব কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে।
২. শেখার মানসিকতা ও কৌতুহল
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
আপনাকে সবকিছু জানতে হবে না, কিন্তু জানার আগ্রহ থাকতে হবে। কোম্পানির ব্যবসা কীভাবে চলে, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট কীভাবে কাজ করে— তা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রশ্ন করুন এবং নোট খাতার ব্যবহার করুন।
৩. শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং তৈরি
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
শুধু নিজের টিমের সঙ্গে নয়, লাঞ্চ ব্রেক বা চা পানের বিরতিতে অন্য ডিপার্টমেন্টের সহকর্মীদের সাথেও পরিচিত হন। লিংকডইনে (LinkedIn) অফিসের সহকর্মীদের যুক্ত করুন। আপনার অমায়িক ব্যবহার যেন সবার মনে থাকে।
৪. নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করা
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
যে কাজ বা সময়সীমার প্রতিশ্রুতি দেবেন, তা অবশ্যই পূরণ করুন। কোনও কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব না হলে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানান। বড় কোনও কাজ করলে মাঝেমধ্যে সংক্ষিপ্ত আপডেট দিন। এতে সুপারভাইজার বুঝতে পারবেন যে আপনি কাজটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
৫. শেষ দিনগুলোতে আগ্রহের কথা জানানো
কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার দুই-তিন সপ্তাহ আগে আপনার লাইনে থাকা ম্যানেজার বা এইচআর’র সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বসেন। বিনীতভাবে জানান যে, আপনি এই প্রতিষ্ঠানে ফুল-টাইম কাজ করতে আগ্রহী এবং জানতে চান ফাঁকা কোনও পজিশন আছে কিনা।
আপনাকে ছোট যে কাজটাই দেওয়া হোক না কেন (যেমন-এক্সেল শিট তৈরি বা ফাইল গোছানো), সেটি নিখুঁতভাবে করুন। ম্যানেজার যেন বুঝতে পারেন, আপনার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়।
বিশেষজ্ঞের মতামত
দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ কর্মকর্তাদের মতে, কোম্পানিগুলো এখন শুধু সিভির সিজিপিএ দেখে কর্মী নেয় না। তারা খোঁজে এমন প্রার্থীকে, যার মধ্যে শেখার প্রবল আগ্রহ রয়েছে, যিনি সহজে দলের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন এবং যার কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন যদি হয় রিহার্সাল, তবে করপোরেট লাইফ হলো মূল পারফরম্যান্স। শুরুর ধাক্কাগুলো সামলে নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে যেকোনো ফ্রেশারের জন্যই করপোরেট দুনিয়ায় নিজের জায়গা পাকা করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।









