একসময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল বিনোদন আর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। রাজনীতিক, তারকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম; সবাই মানুষের কাছে পৌঁছাতে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করছে। আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন এক পেশার বাজার।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু পোস্ট দেওয়ার কাজ নয়; এর পেছনে কাজ করছেন সম্পাদক, ভিডিও নির্মাতা, কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট, ডিজিটাল মার্কেটার ও অ্যানালিস্টদের একটি দল।
সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক লেখায় পত্রিকাটির সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের ডেপুটি এডিটর অগাস্টা অ্যান্থনি লিখেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দক্ষ মানুষের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তার নিজের ক্যারিয়ারই এর উদাহরণ। একসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা না থাকলেও এখন তিনি সাংবাদিকদের টিকটকের জন্য আকর্ষণীয় ‘হুক’ তৈরি করা থেকে শুরু করে ভালো সেলফি তোলার কৌশল নিয়েও পরামর্শ দেন।
অ্যান্থনির অভিজ্ঞতায়, ২০২৩ সালে সিএনএনের টিকটক চ্যানেলের কনটেন্ট তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, দর্শকের বড় অংশ ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে গেছে। এ বছরের শুরুর দিকে সিএনএন ছাড়ার সময় চ্যানেলটির অনুসারী ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
পরিবর্তনটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে নয়। অক্সফোর্ডের রয়টার্স ইনস্টিটিউটের ডিজিটাল নিউজ রিপোর্ট ২০২৬ বলছে, বিশ্বে সংবাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল ও ভিডিও নেটওয়ার্ক এখন সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যাপকে ছাড়িয়ে গেছে। ৪৮টি বাজারের গড়ে ৫৪ শতাংশ মানুষ সংবাদ পেতে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের চাকরির বাজারেও সোশ্যাল মিডিয়া দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ফেসবুক পেজ চালানোর লোক নয়, এমন কর্মী চাইছে যারা কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন, দর্শকের আচরণ বুঝতে পারেন এবং ডেটা দেখে কৌশল ঠিক করতে পারেন।
এ খাতে কাজের সুযোগও কম নয়—সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, কনটেন্ট রাইটিং, ভিডিও তৈরি, গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ও অ্যানালিটিকস—সবই এর অংশ।
লরেন স্পিয়ারম্যানের গল্পটিও বেশ চেনা। মার্কেটিংয়ে চাকরি খোঁজার অভিজ্ঞতা টিকটকে তুলে ধরতে গিয়ে তার অনুসারী দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজারে। পরে তিনি ফ্রিল্যান্স পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার ভাষায়, সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেক সময় হালকা কাজ হিসেবে দেখা হলেও ব্যবসার জন্য এটি এখন ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
তবে এই পেশায় শুধু ভাইরাল হওয়ার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। লেখার পাশাপাশি ভিডিও, ডিজাইন, ডেটা বিশ্লেষণ, দর্শকের মনস্তত্ত্ব এবং এখন এআই ব্যবহারের দক্ষতাও কাজে লাগছে।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য তাই সোশ্যাল মিডিয়া হতে পারে নতুন সম্ভাবনার জায়গা। তবে এটিকে শুধু ‘ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার চাকরি’ হিসেবে দেখলে চলবে না। যে তরুণ গল্প বলতে পারেন, প্রযুক্তি বোঝেন এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন—সামনের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার চাকরির বাজারে তাঁর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।









