আকাশে উড়তে উড়তেও প্রেমে পড়ে মানুষের মন! উড়োজাহাজে ভ্রমণসঙ্গী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নানান সংস্কৃতির মানুষজন থাকে। আকাশপথে তাদের অনেকে একে অপরের চেনা হয়ে ওঠেন। ৩০ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ে উড়েই জীবনে ভালোবাসার দেখা মেলে অনেকের। ব্রিটিশ ব্যাংক এইচএসবিসির নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, গড়ে অর্ধশত মানুষের মধ্যে একজন উড়োজাহাজে প্রেমে পড়েন! যদিও স্বাভাবিকভাবে আকাশপথে প্রেমটা মুহূর্তেই প্রকাশ করা হয় না।
১৪১টি দেশের ২ হাজার ১৫০ জনের সাক্ষাৎকারের ওপর নির্ভর করে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এইচএসবিসি। তাদের কাছে প্রেমে পড়ার গল্পসহ বিভিন্ন বিষয় জানতে চাওয়া হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ছয় হাজার মানুষকে আকাশপথে ভ্রমণের সময় নিজেদের বিভিন্ন অভ্যাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
জানা গেছে, উড়োজাহাজের অভ্যন্তরে অচেনা যাত্রীর সঙ্গে কথোপকথন ভালো লাগে না অর্ধেক ভ্রমণকারীর। আকাশপথে শুধু প্রেমের সম্পর্কের জন্মই যে হয় তা নয়; গবেষণা অনুযায়ী সাতজনের মধ্যে একজন টেকসই বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন বিমানে। আর ১৬ শতাংশ যাত্রীর নিজেদের নেটওয়ার্কের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হয় উড়তে উড়তে।
ব্যবসায়িক অংশীদার কিংবা পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে যাত্রীদের ইনফ্লাইট ওয়াইফাই সুযোগ দিচ্ছে অনেক এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ‘ইনফ্লাইটো’ নামের এয়ারলাইন অ্যাপের মাধ্যমে পাইলট ও যাত্রীদের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে যাত্রীরা একে অপরের সঙ্গেও আলাপচরিতায় অংশ নিতে পারেন এই অ্যাপের মাধ্যমে।
গবেষণা বলছে, পাশের যাত্রী জুতা খুলে রাখলে রেগে যান যাত্রীদের ৪৮ শতাংশ। অন্য কোনও ভ্রমণকারী বিমানবালার সঙ্গে দুব্যর্বহার করলে ৬৫ শতাংশ যাত্রী বিরক্ত হন। পাশের যাত্রীর অতিরিক্ত মদ্যপান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ৪৬ শতাংশের।
এইচএসবিসি মনে করেন, পাশের আসনের যাত্রীর মন জয় করতে হলে তার জন্য বরাদ্দ জায়গা ছেড়ে রাখা শ্রেয়। যেমন, অন্যরা মাথার ওপর লকারের জায়গা বেশি দখল করে রাখলে ৩৭ শতাংশ যাত্রী ভালো চোখে দেখেন না। হাতের বিশ্রাম নেওয়ার নির্দিষ্ট হাতল পাশের যাত্রীর ব্যবহার করলে ৩২ শতাংশ লোক ক্ষুব্ধ হন। অন্যের কাঁধে ঘুমিয়ে পড়া যাত্রীদের নিয়ে ৩০ শতাংশ ভ্রমণকারী আর ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন এমন মানুষকে নিয়ে সাক্ষাৎকারদাতাদের ২৬ শতাংশই বিরক্ত।
সূত্র: সিএনএন








