বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) লাইসেন্স পেয়েছে সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিনের প্রতিষ্ঠান আকিজ বশির এভিয়েশন। রবিবার (১৯ জুলাই) বেবিচক এই অনুমোদন দেয় বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত বছর আবেদনের প্রেক্ষিতে আকিজ বশির এভিয়েশনকে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য লাইসেন্সে দেওয়া হয়েছে। তবে, অভিযোগ রয়েছে, উপদেষ্টার পাশাপাশি বিমানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে লাইসেন্স পেতে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ মার্চ আকিজ বশির এভিয়েশন লিমিটেডের নামে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। আবেদন করার সময় জমা দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সের কপিতে লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল ৩০ শে জুন, ২০২৫ পর্যন্ত। এছাড়া গত বছরের মার্চ মাসে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস বাংলাদেশে আবেদন করে আকিজ বশির এভিয়েশন।
জানা গেছে, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকার সময় গত বছর ১৫ এপ্রিল শেখ বশির উদ্দিনকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর গত বছরের ২৬ আগস্টে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। গত বছরের এপ্রিলে বিমান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই বেবিচকে আকিজ বশির এভিয়েশন লিমিটেডের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টার দায়িত্বে থেকে নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে তার এ নিয়োগ নিয়ে অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেন।
বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আকিজ বশির এভিয়েশনকে দ্রুত লাইসেন্স না দেওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যানসহ বোর্ড মেম্বারদের প্রত্যাহার করার জন্য চিঠি দেন তৎকালীন বাণিজ্য ও বিমান উপদেষ্টা। তখন সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাহিদা অনুযায়ী সকল কাগজপত্র দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র সরবরাহ করায় আজ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি দেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।”
গত বছর সমালোচনার মুখে তখন শেখ বশির উদ্দিন গণমাধ্যমে বলেছিলেন, “আমিই প্রথম কোনও উপদেষ্টা হিসেবে বিমানের চেয়ারম্যান হয়নি। আমার আগে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এই দায়িত্ব পালন করেছেন, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। আমি ২৩তম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছি।”
শেখ বশির উদ্দিন আরও বলেছিলেন, “আমার একটি মাত্র হেলিকপ্টার আছে, যার কোনও পাখা নেই। বাংলাদেশে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এ জন্য আকিজ বশির এভিয়েশন লিমিটেডের পক্ষ থেকে কমার্শিয়াল লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে ১১ মাস আগে। আমি ওই কোম্পানির মেজর শেয়ারহোল্ডার হওয়া সত্ত্বেও এখনও লাইসেন্স পাইনি। অথচ, আমার কোম্পানির পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার, হ্যাঙ্গারসহ সবকিছুই প্রস্তুত। আমি প্রভাব বিস্তার করলে তো অনেক আগেই লাইসেন্স পাওয়ার কথা ছিল।”









