কোন জেলার নামকরণ কীভাবে

বানর ও বাঁধ মিলিয়ে ‘বান্দরবান’

জার্নি রিপোর্ট
২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৫৬আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৭

৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের দেশ বাংলাদেশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন জীবনাচার মন কাড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ ও মিনার, নদী, পাহাড়, অরণ্যসহ হাজারও সুন্দরের রেশ ছড়িয়ে আছে টেকনাথ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত।

দেশের আট বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ৬৪ জেলা। প্রতিটি জেলার নামকরণের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাস। এসব ঘটনা ভ্রমণপিপাসু উৎসুক মনকে আকর্ষণ করে। তাই বাংলা ট্রিবিউন জার্নিতে ধারাবাহিকভাবে জানানো হচ্ছে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

নাফাখুম ঝরনা বান্দরবান জেলা
বান্দরবান জেলার নামকরণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথা অনুযায়ী, এ এলাকায় অসংখ্য বানর বাস করতো। এই বানরগুলো শহরের প্রবেশমুখে ছড়ার পাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। একসময় অতি বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় জনপদের মানুষ। তখন এই জায়গা ‘ম্যাঅকছি ছড়া’ হিসেবে পরিচিতি পায়। মারমা ভাষায় ‘ম্যাঅক’ শব্দটির অর্থ হলো বানর আর ‘ছি’ শব্দের অর্থ বাঁধ। কালের প্রবাহে বাংলা ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম ‘বান্দরবান’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে মারমা ভাষায় বান্দরবানের প্রকৃত নাম ‘রদ ক্যাওচি চিম্রো’।

শৈলপ্রপাত ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেলা ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে বান্দরবান ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অধীনে। তৎকালীন সময়ে বোমাং সার্কেলের অর্ন্তভুক্ত ছিল বান্দরবান। বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই জেলার আদি নাম ‘বোমাং থং’। ১৯৫১ সালে মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় বান্দরবানে। এটি ছিল রাঙামাটি জেলার প্রশাসনিক ইউনিট। ১৯৮১ সালের ১৮ এপ্রিল তৎকালীন লামা মহকুমার ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

রেমাক্রি যাওয়ার পথে বড় পাহাড় বান্দরবান শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে বালাঘাটায় রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির। স্থানীয়ভাবে এটি হলো ‘বুদ্ধ ধাতু জাদি’। এছাড়া শহরেই রয়েছে জাদিপাড়ার রাজবিহার ও উজানিপাড়ার বিহার। শহর থেকে চিম্বুকের পথে যেতে চোখে পড়বে বম ও ম্রো উপজাতিদের গ্রাম। মেঘলা সাফারি পার্কে আছে দুটি ঝুলন্ত সেতু। সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণ ভ্রমণপিয়াসীদের মনোরম অভিজ্ঞতা দেয়।

বান্দরবান শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত একটি আকর্ষণীয় পাহাড়ি ঝরনা। এছাড়া বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিনডং ও বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডংয়ে আরোহণের জন্য পর্যটকদের ভিড় জমে। পর্যটকরা সাধারণত বগা লেক থেকে হেঁটে কেওক্রাডংয়ে যান। অনেকেই আছেন যারা কেওক্রাডং না গিয়ে বগা লেক থেকে ফিরে আসেন। এই হ্রদও দর্শনীয় স্থান। হ্রদসন্নিহিত এলাকায় বম উপজাতিদের বাস।

বুদ্ধ ধাতু জাদি জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থানের মধ্যে আরও রয়েছে প্রান্তিক হ্রদ, জীবননগর ও কিয়াচলং হ্রদ, বাকলাই ঝরনা, চিনরি ঝিরি ঝরনা, ফাইপি ঝরনা, জাদিপাই ঝরনা, মিরিংজা পর্যটন, নাফাখুম, রেমাক্রি, নীলাচল, নীলগিরি, থানচি, পতংঝিরি ঝরনা, প্রান্তিক লেক, রিজুক ঝরনা ও উপবন পর্যটন।
ছবি: ওয়ালিউল বিশ্বাস
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন





/জেএইচ/চেক/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম